‘ওদের শর্ত পছন্দ নয়’-ইরানের ‘যুদ্ধবিরতি’ প্রস্তাবে সায় নেই ট্রাম্পের, জেনেনিন কেন?

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের আগুন নেভার কোনও লক্ষণ তো নেই-ই, বরং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে জল্পনা আরও ঘনীভূত হলো। গোটা বিশ্ব যখন জ্বালানি সঙ্কটে ধুঁকছে এবং শান্তির পথ খুঁজছে, ঠিক তখনই ইরানের সঙ্গে কোনও চুক্তিতে আসতে সরাসরি অস্বীকার করলেন ট্রাম্প। এর ফলে যুদ্ধ থামার আশা আপাতত বিশ বাঁও জলে।

এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, তেহরান এই মুহূর্তে আলোচনার টেবিলে বসতে এবং একটি চুক্তি (Deal) করতে চাইছে। কিন্তু ট্রাম্পের দাবি, ইরানের দেওয়া শর্তগুলি আমেরিকার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, “ইরান ডিল করতে চায়, কিন্তু আমি এখনও তৈরি নই। কারণ ওদের শর্ত ঠিক নেই।” ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি— যদি ভবিষ্যতে কোনও চুক্তি হয়, তবে তা হবে অত্যন্ত কঠোর।

পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে সংঘাত: আমেরিকা ও ইরানের এই দীর্ঘ লড়াইয়ের মূলে রয়েছে তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি। ট্রাম্পের সাফ কথা, ইরানকে তাদের পরমাণু উচ্চাকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করতে হবে। অন্যদিকে, ইরানও নিজেদের অবস্থানে অনড়। এই রশি টানাটানির ফলেই যুদ্ধ আজ তৃতীয় সপ্তাহে পদার্পণ করল।

হরমুজ সঙ্কটে বিপাকে বিশ্ব: ইরান যুদ্ধের জেরে সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে হরমুজ প্রণালীতে। ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ বন্ধ করে রাখায় বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাসের জোগান তলানিতে ঠেকেছে।

  • জ্বালানি হাহাকার: পেট্রোল-ডিজেলের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ায় ভারত-সহ বহু দেশের অর্থনীতি চাপের মুখে।

  • ট্যাঙ্কার নিরাপত্তা: ট্রাম্প যদিও দাবি করেছেন যে বহু দেশ মিলে সমুদ্রপথ নিরাপদ রাখার চেষ্টা করছে, কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতির বিশেষ উন্নতি হয়নি।

অনিশ্চয়তায় ভারত: হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে বড়সড় সঙ্কটের আশঙ্কা করছে নয়াদিল্লি। ভারতের মতো দেশগুলি যখন দ্রুত যুদ্ধবিরতির আর্জি জানাচ্ছে, তখন ট্রাম্পের এই অনড় মনোভাব বিশ্বের তেল বাজারে নতুন করে আতঙ্কের সৃষ্টি করল।

আমেরিকা কি সামরিক চাপ বাড়িয়ে ইরানকে মাথা নত করতে বাধ্য করবে, না কি শেষ পর্যন্ত আলোচনার নতুন কোনও পথ বেরোবে— এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা বিশ্ব।