“নন্দীগ্রামই শুভেন্দুর প্রথম পছন্দ”-ভবানীপুরে কি দাঁড়াবেন? যা বললেন শুভেন্দু

বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার ঠিক মুখে নিজের লড়াইয়ের ময়দান স্পষ্ট করে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি প্রার্থী হতে পারেন— এমন জল্পনা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই আজ নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু জানিয়ে দিলেন তাঁর প্রথম পছন্দ এই ‘আত্মিক সম্পর্কের’ মাটিই।

ভবানীপুর থেকে লড়ার সম্ভাবনা নিয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্য না করলেও শুভেন্দু আজ বলেন, “আমায় জিজ্ঞেস করলে বলব, আমি নন্দীগ্রামেই লড়তে চাই। এরপর পার্টি যা সিদ্ধান্ত নেবে তাই হবে। পার্টি অন্য কোথাও দাঁড়াতে বললেও আমি পিছু হটব না।” তৃণমূলের দিকে কটাক্ষ ছুঁড়ে তিনি আরও বলেন, “এটা পিসি-ভাইপোর পার্টি নয় যে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে সব হবে, এখানে সমষ্টিগত সিদ্ধান্তই শেষ কথা।”

ভবানীপুর জল্পনা ও শুভেন্দুর অবস্থান:
রাজনৈতিক মহলে খবর ছিল, মমতাকে তাঁর খাসতালুকে চ্যালেঞ্জ জানাতে শুভেন্দুকে ভবানীপুরে পাঠাতে পারে বিজেপি। আজ সেই বিষয়ে শুভেন্দুর সাফ জবাব, “বিজেপি আমায় না লড়ালেও ঠিক আছে, লড়তে দিলেও ঠিক আছে। তবে নন্দীগ্রাম রেখেই আমি অন্য কিছু ভাবতে পারি।” অর্থাৎ, নন্দীগ্রামের মাটি যে তিনি ছাড়ছেন না, তা এদিন কার্যত পরিষ্কার করে দিলেন বিরোধী দলনেতা।

ভোটের দফা ও নিরাপত্তা নিয়ে বিস্ফোরক:
এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মুখ খোলেন:

দফা কমানোর দাবি: বিজেপি চায় কম দফায় ভোট হোক, তবে নিরাপত্তা হতে হবে নিশ্ছিদ্র।

কেন্দ্রীয় বাহিনী: শুভেন্দুর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে রাস্তায় দেখা যাচ্ছে না। তাঁর ভাষায়, “বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ যেন ‘চাটাদের’ হাতে না থাকে। তাদের হাতে থাকলে বাহিনীর সঠিক ব্যবহার হবে না।”

ভোটার তালিকা: প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটার ‘বিবেচনাধীন’ রয়েছে বলে দাবি তাঁর। ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট মিলিয়েই সঠিক ভোটারদের রাখা হবে বলে তিনি জানান।

আইপ্যাক-কে আক্রমণ:
গিরিশ পার্কের অশান্তি নিয়ে শুভেন্দুর দাবি, তৃণমূল এবং প্রশান্ত কিশোরের সংস্থা ‘আইপ্যাক’ ইচ্ছাকৃতভাবে ঝামেলা পাকিয়ে অশান্তির পরিবেশ তৈরি করতে চাইছে।

ভোটের বাদ্যি বাজার আগেই শুভেন্দুর এই ‘নন্দীগ্রাম প্রেম’ এবং বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মন্তব্য বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ বাড়াল। এখন দেখার, বিজেপি হাইকম্যান্ড শেষ পর্যন্ত শুভেন্দুকে কোথায় দাঁড় করায়।