রান্নার গ্যাসের দিন শেষ! ভারতে এলপিজির সস্তা বিকল্প আনলেন বিজ্ঞানীরা, খরচ কমবে বিপুল

রান্নার গ্যাসের ক্রমবর্ধমান দাম এবং আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে ঐতিহাসিক সাফল্য পেলেন ভারতীয় বিজ্ঞানীরা। পুনের CSIR-NCL (National Chemical Laboratory)-এর বিজ্ঞানীরা এলপিজির বিকল্প হিসেবে ডাইমিথাইল ইথার (DME) তৈরির প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন। এই আবিষ্কারের ফলে ভারত আগামী দিনে জ্বালানি খাতে স্বনির্ভর হওয়ার পথে আরও একধাপ এগিয়ে গেল।

কেন এই আবিষ্কার গেম চেঞ্জার? ভারত বর্তমানে রান্নার গ্যাসের সিংহভাগই বিদেশ থেকে আমদানি করে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লেই দেশের আমজনতার পকেটে টান পড়ে। বিজ্ঞানীরা মিথানল থেকে এই DME গ্যাস তৈরির একটি পেটেন্ট-সুরক্ষিত পদ্ধতি বের করেছেন। বিশেষ এক ‘অনুঘটক’ (Catalyst) ব্যবহার করে খুব অল্প খরচে এবং মাত্র ১০ বার চাপে এই গ্যাস উৎপাদন করা সম্ভব।

পুরনো সিলিন্ডারেই চলবে নতুন গ্যাস: সবচেয়ে সুবিধাজনক বিষয় হলো, এই DME গ্যাস ব্যবহার করার জন্য আপনাকে নতুন কোনো সিলিন্ডার, রেগুলেটর বা ওভেন কিনতে হবে না। বর্তমান এলপিজি সিলিন্ডারেই এটি ভরা যাবে। বিজ্ঞানীরা একটি বিশেষ ‘ফ্লেক্স-ফুয়েল বার্নার’ তৈরি করেছেন, যা এলপিজি এবং DME—উভয় জ্বালানিতেই সমান দক্ষতায় কাজ করবে।

কৃষকদের আয় বাড়বে, কমবে দূষণ: DME একটি অত্যন্ত স্বচ্ছ জ্বালানি যা পরিবেশ দূষণ কমায়। সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, এই গ্যাস তৈরির কাঁচামাল বা মিথানল পাওয়া যাবে কয়লা, বায়োমাস বা ফসলের অবশিষ্টাংশ থেকে। এর ফলে কৃষকরা তাঁদের বর্জ্য বিক্রি করে অতিরিক্ত আয় করতে পারবেন। বর্তমানে পুনের ল্যাবে দৈনিক ২৫০ কেজি গ্যাস উৎপাদন হচ্ছে, যা খুব শীঘ্রই বাণিজ্যিক ভিত্তিতে প্রতিদিন ৫০-১০০ টনে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।