‘জীবনানন্দের অপমান!’ আবুল বাশারের মমতা-বন্দনায় কেন ক্ষুব্ধ বিতর্কিত লেখিকা? ক্লিক করে জানুন

একসময় যাঁর ‘ফুলবউ’ পড়ে মুগ্ধ হয়েছিলেন, আজ তাঁর বিরুদ্ধেই তোপ দাগলেন নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। প্রখ্যাত সাহিত্যিক আবুল বাশারের সাম্প্রতিক এক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দুই বাংলার সাহিত্য মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। তসলিমার সাফ কথা, শাসকদলের কাছ থেকে সুবিধা পেতেই নিজের ব্যক্তিত্ব ও মেরুদণ্ড বিসর্জন দিয়েছেন আবুল বাশার।

ঠিক কী ঘটেছিল? সম্প্রতি ভোটার তালিকা সংশোধন বা SIR-এর বিরোধিতা করে ধর্মতলায় ধর্ণায় বসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন সাহিত্যিক আবুল বাশারও। সেখান থেকেই তিনি মন্তব্য করেন, “এই পৃথিবী ধন্য হয়েছে মমতার মতো মানুষকে পেয়ে।” এখানেই শেষ নয়, জীবনানন্দ দাশের কবিতা উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, মমতা বারবার পৃথিবীতে আসবেন না। এমনকি ভবিষ্যতে ঘরে ঘরে মমতার গান ও কবিতা বাজবে বলেও ভবিষ্যদ্বাণী করেন তিনি।

তসলিমার কড়া জবাব: আবুল বাশারের এই ‘চাটুকারিতা’ দেখে নিজেকে সামলাতে পারেননি তসলিমা। ফেসবুকে একটি দীর্ঘ পোস্টে তিনি নিজের হতাশা উগরে দিয়েছেন। তসলিমা লিখেছেন, দুই বাংলার সাহিত্য ও সংস্কৃতি জগতে এখন আর কোনো বিবেকবান বা নির্লোভ মানুষ অবশিষ্ট নেই। প্রত্যেকেই নিজের আখের গোছাতে শাসকের চরণে নিজেদের বিকিয়ে দিয়েছেন। তাঁর মতে, আবুল বাশার তাঁর স্বকীয়তা হারিয়ে এখন নিছকই একজন চাটুকারে পরিণত হয়েছেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝোড়ো বিতর্ক: তসলিমার এই পোস্ট মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। নেটিজেনদের বড় অংশই তসলিমাকে সমর্থন জানিয়ে বলছেন, বর্তমান বাংলার বুদ্ধিজীবীরা সরকারি সুবিধা ও পুরস্কারের লোভে শাসকের কোনো অন্যায় চোখে দেখতে পান না। কেউ কেউ আবার আক্ষেপ করে বলছেন, তসলিমা সত্যি কথা বলে দেশছাড়া হয়েছেন, আর আজকের তথাকথিত লেখকরা সুবিধা পেতে সত্যকে বিসর্জন দিচ্ছেন।