শিক্ষকদের রোদে দাঁড় করিয়ে ‘শাস্তি’ তৃণমূল নেতার! প্রিয় স্যরদের অপমানে রণচণ্ডী খুদে পড়ুয়ারা

শিক্ষকরা ছাত্রছাত্রীদের শাস্তি দেন, এটাই দস্তুর। কিন্তু যখন রাজনীতির দাপটে খোদ শিক্ষকদেরই রোদে দাঁড় করিয়ে ‘শাস্তি’ দেওয়া হয়, তখন সেই দৃশ্য সহ্য করতে পারে না কচিকাচারাও। পুরুলিয়ার পুঞ্চা ব্লকের বাগদা চন্দ্রকান্ত বিদ্যাপীঠের এই ঘটনায় তোলপাড় রাজ্য। শিক্ষকদের অপমানের প্রতিবাদে খুদে পড়ুয়াদের রুখে দাঁড়ানোর দৃশ্য এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল।
ঘটনার সূত্রপাত: গত ১৩ মার্চ বকেয়া ডিএ-র দাবিতে রাজ্যজুড়ে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল একাধিক শিক্ষক সংগঠন। সেই ধর্মঘটে সামিল হয়েছিলেন বাগদা চন্দ্রকান্ত বিদ্যাপীঠের কয়েক জন শিক্ষক। অভিযোগ, শনিবার সকালে তাঁরা যখন স্কুলে যোগ দিতে আসেন, তখন তাঁদের পথ আটকান স্কুলের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও তৃণমূল নেতা নিমাই চক্রবর্তী। ‘কেন ধর্মঘট করা হয়েছে’—এই কৈফিয়ত চেয়ে স্কুলের মূল গেটে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
রোদে অসুস্থ প্রধান শিক্ষক, ঢাল পড়ুয়ারা: অভিযোগ, কড়া রোদের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ শিক্ষকদের গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য করা হয়। এই অপমানে ও শারীরিক চাপে অসুস্থ হয়ে পড়েন প্রধান শিক্ষক তপন গোপ। প্রিয় শিক্ষককে অসুস্থ হতে দেখেই মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি বদলে যায়। ক্লাস ছেড়ে বেরিয়ে আসে কয়েকশ ছাত্রছাত্রী। গেটের বাইরে রাস্তার ওপর বসে পড়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে তারা। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এবং পড়ুয়াদের তোপের মুখে পড়ে এলাকা ছাড়েন অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা ও তাঁর অনুগামীরা।
রাজনীতি বনাম শিক্ষা: ঘটনার পর পুলিশ এসে পরিস্থিতি সামাল দেয়। প্রায় দু’ঘণ্টা পর স্কুলের পঠনপাঠন শুরু হয়। প্রধান শিক্ষক বলেন, “আমাদের স্কুলে এমন সংস্কৃতি আগে ছিল না। রাজনীতির দাপটে শিক্ষকদের এই অপমান মানা যায় না।” অন্যদিকে, অভিযুক্ত নিমাই চক্রবর্তীর সাফাই, স্কুল কেন বন্ধ ছিল সেই জবাবদিহি চাইতেই তিনি বাধা দিয়েছিলেন। তবে পড়ুয়াদের সাফ কথা—”আমাদের স্যরদের কোনো দোষ নেই, ওদের অপমান আমরা মানব না।”