“রান্নাঘরে জোড়া গ্যাস রাখলেই বিপদ!”-ফিরিয়ে দিতে হবে গ্যাস সিলিন্ডারও, কেন?

মধ্যপ্রাচ্যের রণদামামা এবার সরাসরি আছড়ে পড়ল ভারতের সাধারণ মানুষের রান্নাঘরে। একদিকে যুদ্ধের জেরে দেশে এলপিজি (LPG) সরবরাহে টান, আর অন্যদিকে এই সঙ্কট মোকাবিলায় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত। আপনি কি বাড়িতে পাইপ লাইনের গ্যাস (PNG) এবং সিলিন্ডার দুটোই ব্যবহার করেন? তবে সাবধান! আপনার জন্য আসছে বড় বদল।
যুগ্ম সংযোগে ইতি: সারেন্ডার করতে হবে সিলিন্ডার! কেন্দ্রীয় সরকারের নয়া নির্দেশিকা অনুযায়ী, যেসব গ্রাহকের বাড়িতে ইতিমধ্যেই PNG (Piped Natural Gas) সংযোগ রয়েছে, তাঁরা আর বাড়িতে গার্হস্থ্য LPG সিলিন্ডার রাখতে পারবেন না। তেল কোম্পানিগুলিকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এই ধরণের গ্রাহকদের জন্য আর কোনো সিলিন্ডার রিফিল করা হবে না। কালোবাজারি রুখতে এবং বণ্টন ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে গ্রাহকদের দ্রুত তাঁদের এলপিজি কানেকশন সারেন্ডার করার কথা বলা হয়েছে।
কেন এই কঠোর পদক্ষেপ? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বহু পরিবার PNG থাকা সত্ত্বেও জরুরি অবস্থার জন্য বাড়িতে অন্তত একটি সিলিন্ডার মজুত রাখেন। যুদ্ধের আবহে যখন গ্যাসের জোগান কম, তখন এই ‘অপ্রয়োজনীয় মজুত’ সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে। সরবরাহ ব্যবস্থা সুসংগঠিত করতেই কেন্দ্র এই ‘এক গ্রাহক, এক সংযোগ’ নীতি কঠোরভাবে কার্যকর করছে।
সঙ্কটের কারণ ও বর্তমান পরিস্থিতি:
-
হরমুজ প্রণালী বিভ্রাট: ইরান ও ইজরায়েলের যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় ভারতে এলপিজি আমদানি ব্যাহত হয়েছিল।
-
হাহাকার: দিল্লি ও মুম্বইয়ের মতো বড় শহরে ইতিমধ্যেই রান্নার গ্যাসের জন্য দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ছে। বহু রেস্তোরাঁ জ্বালানির অভাবে তালাবন্ধ হওয়ার মুখে।
-
আশার আলো: ভারতের জন্য বিশেষ ভাবে হরমুজ প্রণালী খুলে দিয়েছে ইরান। আশা করা হচ্ছে, আগামী ১৬ বা ১৭ মার্চ ভারতে গ্যাস ভর্তি দুটি বড় জাহাজ এসে পৌঁছাবে।
সরকারের আশ্বাস: যদিও কেন্দ্র দাবি করছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে, তবুও মজুদদারি রুখতে দেশজুড়ে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে প্রশাসন। এসএসকেএম (SSKM) থেকে শুরু করে দিঘার জগন্নাথ মন্দির— সর্বত্রই রান্নার গ্যাসের টান ধরা পড়ায় এই মুহূর্তে বিকল্প ব্যবস্থা করতে মরিয়া পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক।