যমজ বোনকে ৮৪ কোপ, তারপর মা-কে ‘সারপ্রাইজ’! ইঞ্জিনিয়ারের নৃশংসতায় কাঁপছে দেশ

ইঞ্জিনিয়ার ভাই, উচ্চশিক্ষিতা যমজ বোন। একই সাথে বড় হওয়া, একই পেশা। কিন্তু সেই যমজ ভাইয়ের হাতেই যে বোনকে এমন নৃশংস পরিণতির শিকার হতে হবে, তা কল্পনাও করতে পারেনি পরিবার। উত্তরপ্রদেশের মোরাদাবাদের এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডে শিউরে উঠছে গোটা দেশ। অভিযুক্ত হার্দিক তাঁর বোন হিমাশিখাকে ৮৪ বার কুপিয়ে খুন করার পর মা-কেও খুনের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ।
কী ঘটেছিল সেই অভিশপ্ত রাতে? পুলিশ সূত্রে খবর, ২৫ বছর বয়সী হার্দিক ও হিমাশিখা দুজনেই পেশায় ইঞ্জিনিয়ার এবং গুরুগ্রামে কর্মরত ছিলেন। হিমাশিখা চাকরির পাশাপাশি এমবিএ পড়ছিলেন। অন্যদিকে, হার্দিক সম্প্রতি চাকরি ছেড়ে দিয়ে প্রচণ্ডভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় আসক্ত হয়ে পড়েন। সেখানেই এক ভিন্নধর্মী তরুণীর সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই সম্পর্ক এবং ক্যারিয়ার নিয়ে উদাসীনতার কারণে মা নীলিমা ও বোন হিমাশিখা তাঁকে প্রায়ই বোঝাতেন। গত ৬ মার্চ এই নিয়েই বিবাদ চরমে পৌঁছায়।
৮৪ বার কোপ ও ‘ভয়ঙ্কর সারপ্রাইজ’: তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে রাগের মাথায় সবজি কাটার ছুরি নিয়ে যমজ বোনের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন হার্দিক। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট বলছে, হিমাশিখার শরীরে ৮৪টি গভীর ক্ষত পাওয়া গিয়েছে। বোনকে নিথর করে দেওয়ার পর হার্দিক সোজাসুজি চলে যান মায়ের অফিসে। সেখানে গিয়ে মা-কে বলেন, “বাড়ি চলো মা, তোমার জন্য একটা সারপ্রাইজ আছে।”
মা-কেও আক্রমণের চেষ্টা: মা নীলিমা দেবী পেশায় একটি বিমা সংস্থার অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার। ছেলের কথায় আশ্বস্ত হয়ে বাড়ি ফিরতেই দেখেন মেয়ের রক্তাক্ত দেহ পড়ে রয়েছে। তিনি চিৎকার করে উঠলে হার্দিক নিজের মা-কেও খুনের উদ্দেশ্যে আক্রমণ করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় নীলিমা দেবীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, বর্তমানে তিনি বিপদমুক্ত।
গ্রেফতার ও স্বীকারোক্তি: ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ অভিযুক্ত হার্দিককে গ্রেফতার করেছে। জেরায় তিনি জানিয়েছেন, তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও ক্যারিয়ার নিয়ে পরিবারের ক্রমাগত হস্তক্ষেপে তিনি অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন। সেই আক্রোশ থেকেই এই রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড। এক সময়ের মেধাবী ইঞ্জিনিয়ারের এমন মরণনেশায় বদলে যাওয়া এবং খুনি হয়ে ওঠা নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।