হাসিনা-ইউনূস অতীত, তারেক রহমানের হাত ধরে কি ফিরবে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের সুদিন?

৫ অগস্ট ২০২৪-এর সেই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির পর থেকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে বয়ে গিয়েছে একের পর এক ঝোড়ো হাওয়া। শেখ হাসিনার দেশত্যাগ, নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং অবশেষে ২০২৬-এর ফেব্রুয়ারিতে সাধারণ নির্বাচনে জিতে বিএনপি নেতা তারেক রহমানের মসনদে বসা—এই দীর্ঘ ঘটনাক্রমের পর এখন বড় প্রশ্ন: বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দুরা কেমন আছেন?

ইউনূস জমানা ও ‘জগদ্দল পাথর’ বিতর্ক: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত ভাষার অধ্যাপক এবং সংখ্যালঘু অধিকার কর্মী কুশলবরণ চক্রবর্তীর মতে, ড. ইউনূসের দেড় বছরের শাসনকাল ছিল সংখ্যালঘুদের জন্য এক দমবন্ধকর পরিস্থিতি। তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, “বুকের ওপর থেকে জগদ্দল পাথরটা সরেছে, কিন্তু মানুষগুলো এখনো সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি।” তাঁর অভিযোগ, ইউনূস সরকারের আমলে ‘মব কালচার’ বা গণপিটুনির সংস্কৃতি মাথাচাড়া দিয়েছিল, যেখানে বেছে বেছে সংখ্যালঘুদের চাকরি থেকে ছাঁটাই ও হেনস্থা করা হয়েছে।

তারেক রহমানের জমানায় নতুন আশা: গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন তারেক রহমান। গত এক মাসে পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন না হলেও, নতুন সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর একটি মন্তব্য আশার আলো দেখাচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, “মব আর এই দেশে চলবে না।” এই কঠোর অবস্থানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সংখ্যালঘু নেতারা। তাঁদের মতে, ডিজিটাল যুগে চাইলেই এখন সব ধামাচাপা দেওয়া সম্ভব নয়, আর বর্তমান প্রশাসন সেটা বুঝতে পারছে।

ইউনূস সরকারের ‘মন্দের ভালো’: তবে ঢালাও সমালোচনার মাঝেও ইউনূস প্রশাসনের কিছু কাজের প্রশংসা করেছেন অধ্যাপক চক্রবর্তী। দুর্গাপূজায় সরকারি ছুটি বাড়ানো, সরকারি পেজ থেকে শুভেচ্ছা জানানো এবং নিহত দীপু চন্দ্র দাসের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য করার মতো পদক্ষেপগুলোকে তিনি ‘পজিটিভ’ হিসেবে দেখছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, তারেক রহমানের সরকার এই ইতিবাচক ধারা বজায় রাখবে এবং অতীতে হওয়া হিন্দু নির্যাতনের সঠিক বিচার করবে।

ভারত বিদ্বেষ ও কট্টরপন্থা: সাম্প্রতিক নির্বাচনে দেখা গেছে, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ কট্টরপন্থী অনেক নেতাকেই প্রত্যাখ্যান করেছেন। তবে সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাগুলোতে এখনো ভারত বিদ্বেষী প্রচারের প্রভাব রয়ে গেছে। বাগেরহাট বা সাতক্ষীরার মতো হিন্দু প্রধান এলাকাগুলোতে ‘ভারতের জুজু’ দেখিয়ে ভোট মেরুকরণের চেষ্টা এখনো উদ্বেগের কারণ। তারেক রহমানের নতুন জমানায় ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক এবং দেশের অভ্যন্তরীণ সম্প্রীতি কোন পথে যায়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আন্তর্জাতিক মহল।