জীবনে বাধা কাটছে না? আজকের এই বিশেষ ব্রত বদলে দিতে পারে আপনার ভাগ্য!

হিন্দু ধর্মে প্রতিটি একাদশীর আলাদা গুরুত্ব থাকলেও, চৈত্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের ‘পাপ মোচনী একাদশী’র মাহাত্ম্য অপরিসীম। শাস্ত্র মতে, এই তিথিটি হলো ‘পাপ বিনাশক’। আজ, ১৫ মার্চ ২০২৬, দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে এই পবিত্র ব্রত। বিশ্বাস করা হয়, ভক্তিভরে এই উপবাস পালন করলে মানুষ তার জীবনের জ্ঞাত ও অজ্ঞাত সমস্ত পাপ থেকে মুক্তি লাভ করে এবং মোক্ষ লাভের পথ প্রশস্ত হয়।

পাপ মোচনী একাদশীর গোপন মাহাত্ম্য ‘পাপ মোচনী’ শব্দের আক্ষরিক অর্থ হলো— যা সমস্ত কলুষতা বা পাপ মোচন করে। পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী, মহর্ষি চ্যবনের পুত্র মেধাবী ঋষি একবার এক অপ্সরার মোহে পড়ে তপস্যা ভঙ্গ করেছিলেন। পরে নিজের ভুল বুঝতে পেরে তিনি এই একাদশী ব্রত পালন করেন এবং পুনরায় পবিত্রতা ফিরে পান। পদ্ম পুরাণে এই তিথির বিশেষ উল্লেখ রয়েছে। বলা হয়, এক হাজার বছর তপস্যা করলে যে ফল পাওয়া যায়, নিষ্ঠাভরে এই একটি ব্রত পালনেই সেই পুণ্য লাভ সম্ভব।

কীভাবে পালন করবেন এই ব্রত? আজকের দিনে ব্রহ্ম মুহূর্তে স্নান সেরে শুদ্ধ বস্ত্রে ভগবান বিষ্ণুর আরাধনা করা উচিত। শ্রীবিষ্ণুর মূর্তির সামনে ঘৃতপ্রদীপ জ্বালিয়ে ‘ওঁ নমো ভগবতে বাসুদেবায়’ মন্ত্র জপ করা অত্যন্ত শুভ। যারা পূর্ণ উপবাস রাখতে পারবেন না, তারা ফল বা দুধ গ্রহণ করে ব্রত রাখতে পারেন। তবে মনে রাখবেন, একাদশীর দিনে চাল বা শস্যদানা গ্রহণ শাস্ত্রনিষিদ্ধ।

শুভ ফল ও প্রতিকার জ্যোতিষবিদদের মতে, যারা মানসিক অশান্তি বা আর্থিক অনটনে ভুগছেন, এই দিনে দান-ধ্যান করলে তাদের জীবনের বাধা কেটে যায়। সারাদিন নাম সংকীর্তন এবং সন্ধ্যায় আরতির মাধ্যমে ব্রত উদযাপন করলে ঘরে সুখ-সমৃদ্ধি বজায় থাকে। আগামীকাল অর্থাৎ দ্বাদশী তিথিতে সঠিক সময়ে পারণ (উপবাস ভঙ্গ) করলেই ব্রতের পূর্ণ ফল পাওয়া যাবে।