গ্যাসের আকালের মাঝে স্বস্তির হাওয়া! সমুদ্রপথে ভারতের বড় চাল, কী জানাল ইরান?

পশ্চিম এশিয়ার রণক্ষেত্রে যখন কামানের গর্জন আর মিসাইলের ধোঁয়া, ঠিক তখনই ভারতের জন্য এল এক স্বস্তির খবর। দেশজুড়ে এলপিজি সিলিন্ডারের হাহাকার আর আকাশছোঁয়া দামের আশঙ্কার মাঝেই ইরানের সংবাদমাধ্যম এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে। জানা গেছে, সমুদ্রপথে উত্তেজনার মধ্যেই ভারতের দ্বিতীয় এলপিজি-বাহী জাহাজ ‘শিবালিক’ নিরাপদে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে।

তৈল ট্যাঙ্কার মুক্তি ও কূটনীতির লড়াই ইরানি সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, ভারত ও ইরানের মধ্যে একটি গোপন সমঝোতা হয়েছে। অভিযোগ, ভারত তাদের উপকূলে অবৈধ তেল পাচারের অভিযোগে আটকে রাখা ৩টি ইরানি ট্যাঙ্কারকে ছেড়ে দিয়েছে। বিনিময়ে ইরান ভারতের ২টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তেলের ট্যাঙ্কারকে নিরাপদে হরমুজ প্রণালী পার হতে সাহায্য করেছে। যদিও ভারতের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক সিলমোহর দেওয়া হয়নি। বর্তমানে শিপিং কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়ার ‘শিবালিক’ এবং ‘নন্দাদেবী’ জাহাজ দুটি বিপুল পরিমাণ এলপিজি ও তেল নিয়ে ভারতের বন্দরের দিকে এগিয়ে আসছে।

আমেরিকার ‘এপিক ফিউরি’ বনাম ইরানের ‘ট্রু প্রমিস’ যুদ্ধের ১৫তম দিনেও পরিস্থিতি ভয়াবহ। আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড ইরানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘খার্গ দ্বীপ’-এ ৯০টিরও বেশি জায়গায় হামলা চালিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তার নির্দেশে ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী বোমা হামলা চালানো হয়েছে। এর পাল্টা হিসেবে ইরান সংযুক্ত আরব আমিরশাহির ফুজেইরা বন্দরে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। যুদ্ধের এই ডামাডোলে হরমুজ প্রণালীতে ভারতের আরও ২২টি জাহাজ আটকে রয়েছে। যার মধ্যে ৬টিতে এলপিজি এবং ৪টিতে জ্বালানি তেল রয়েছে।

ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বর্তমানে তিনি ইরানের তেলের ভাণ্ডার পুরোপুরি ধ্বংস করেননি। কিন্তু যদি ইরান বা অন্য কেউ হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বাধা দেয়, তবে আমেরিকা আরও কঠোর পদক্ষেপ নেবে। এমনকি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে আমেরিকার সাথে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোরও প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়েছেন তিনি। এই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির মাঝে ভারতের এলপিজি জাহাজ দেশে পৌঁছালে সাধারণ মানুষের হেঁশেলে কিছুটা স্বস্তি ফিরবে বলেই মনে করা হচ্ছে।