ট্রাম্পকে ‘ফাঁদে’ ফেলেছেন নেতানিয়াহু? ইরান যুদ্ধের নেপথ্যে আসল মাস্টারমাইন্ডের পর্দা ফাঁস!

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে চলা বিধ্বংসী যুদ্ধের আজ ১৬তম দিন। আকাশপথে মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র আর ড্রোন হামলায় যখন বিশ্ব অর্থনীতি টালমাটাল, তখন এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধের আসল ‘মাস্টারমাইন্ড’ বা পরিচালক ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। অভিযোগ উঠছে, নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকেও যুদ্ধের ময়দানে নামতে বাধ্য করেছেন।
ট্রাম্পের জন্য পাতা ফাঁদ? দশকজুড়ে নেতানিয়াহুর স্বপ্ন ছিল ইরানকে সামরিকভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া। কূটনীতিকদের মতে, ট্রাম্পকে তিনি বুঝিয়েছিলেন যে ইরানকে হারানো ভেনেজুয়েলার মতোই সহজ হবে। কিন্তু যুদ্ধের দুই সপ্তাহ কাটতে না কাটতেই ছবিটা পাল্টাচ্ছে। আমেরিকায় এখন যুদ্ধবিরোধী হাওয়া বইছে, অথচ নেতানিয়াহু অবিচল। নিউইয়র্ক টাইমসের কলামিস্ট মিরাভ জোনজেসিনের মতে, যুদ্ধ শুরু হওয়াটাই নেতানিয়াহুর সবচেয়ে বড় জয়। ইরান আত্মসমর্পণ করুক বা প্রতিরোধ গড়ুক—সব ক্ষেত্রেই নেতানিয়াহু নিজের রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে প্রস্তুত।
ব্যক্তিগত স্বার্থ বনাম দেশের নিরাপত্তা যুদ্ধের আগে ইজরায়েলে নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তা ছিল তলানিতে। দুর্নীতি ও ফৌজদারি মামলার জালে তিনি প্রায় ফেঁসে গিয়েছিলেন। নিজের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করতে এবং বিচারব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে ওঠা ক্ষোভ ধামাচাপা দিতেই তিনি যুদ্ধের পথ বেছে নিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। যেখানে ২০১০ সালে ইজরায়েলের নিরাপত্তা প্রধানরাই ইরানের ওপর হামলার বিরোধিতা করেছিলেন, আজ সেখানে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে কথা বলার কেউ নেই।
তবে এই জয় কি স্থায়ী? মার্কিন সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৪৪ শতাংশ ভোটার এখন ইজরায়েলকে অতিরিক্ত সমর্থনের বিরোধী। ইজরায়েল সামরিকভাবে শক্তিশালী হলেও রাজনৈতিকভাবে বিশ্বে ক্রমশ একা হয়ে পড়ছে। গাজায় নৃশংস অভিযানের পর ইরানের সাথে এই সংঘাত ইজরায়েলের ভবিষ্যৎকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন।