“QR কোড স্ক্যান করার আগে সাবধান!”-ফাঁকা হতে পারে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, জানুন উপায়

পকেটে নগদ টাকা রাখার দিন শেষ। চা দোকান থেকে বড় শপিং মল— সর্বত্রই এখন ভরসা স্মার্টফোনের একটি ‘স্ক্যান’। কিন্তু এই সহজ লেনদেনের আড়ালেই ওত পেতে বসে আছে সাইবার অপরাধীরা। কিউআর কোড (QR Code) ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সাফ করে দেওয়ার নতুন এক ট্রেন্ড শুরু হয়েছে, যা নিয়ে চিন্তিত নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।
কীভাবে চলে এই জালিয়াতি?
প্রতারকরা এখন সরাসরি ডিজিটাল পদ্ধতিতে হানা না দিয়ে বেছে নিচ্ছে ‘ফিজিক্যাল’ কারসাজি। অনেক সময় দোকানের আসল কিউআর কোডের ওপর প্রতারকরা তাদের নিজেদের অ্যাকাউন্টের একটি স্বচ্ছ স্টিকার লাগিয়ে দেয়। আপনি যখন ভাবছেন দোকানের বিল মেটাচ্ছেন, আসলে তখন আপনার টাকা চলে যাচ্ছে কোনো জালিয়াতের পকেটে।
প্রতারণা এড়াতে বিশেষজ্ঞদের ৫টি গোল্ডেন টিপস:
-
স্টিকার পরীক্ষা করুন: স্ক্যান করার আগে কিউআর কোডটির ওপর হাত দিয়ে দেখুন আলাদা কোনও কাগজ বা স্টিকার লাগানো আছে কি না। সন্দেহ হলে দোকানদারকে সরাসরি জিজ্ঞেস করুন।
-
নাম যাচাই করুন: কোড স্ক্যান করার পর আপনার ফোনে যে নাম বা অ্যাকাউন্টের তথ্য দেখাচ্ছে, তা ওই দোকানের নামের সঙ্গে মিলছে কি না নিশ্চিত হয়ে তবেই ‘Pay’ বোতাম টিপুন।
-
টাকা পাওয়ার জন্য স্ক্যান নয়: মনে রাখবেন, টাকা পাওয়ার জন্য কখনও কিউআর কোড স্ক্যান বা পিন (PIN) দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। কেউ যদি আপনাকে টাকা পাঠানোর নাম করে স্ক্যান করতে বলে, তবে বুঝবেন সেটি নিশ্চিত প্রতারণা।
-
অপরিচিত লিঙ্কে ক্লিক নয়: স্ক্যান করার পর কোনও পপ-আপ মেসেজ বা থার্ড পার্টি লিঙ্কে ক্লিক করতে বললে সঙ্গে সঙ্গে লেনদেন বাতিল করুন।
-
নিরাপদ অ্যাপ ব্যবহার: সবসময় জনপ্রিয় এবং ভেরিফায়েড পেমেন্ট অ্যাপ ব্যবহার করুন। অপরিচিত কোনও কিউআর স্ক্যানার অ্যাপ ডাউনলোড করবেন না।
বিপদে পড়লে কী করবেন?
যদি কোনোভাবে আপনি প্রতারণার শিকার হন, তবে এক মুহূর্ত দেরি না করে ব্যাংকের কাস্টমার কেয়ারে ফোন করে অ্যাকাউন্ট ব্লক করুন। পাশাপাশি জাতীয় সাইবার ক্রাইম পোর্টালে আপনার অভিযোগ নথিভুক্ত করুন।
ডিজিটাল পেমেন্ট আপনার জীবনকে সহজ করেছে ঠিকই, কিন্তু সামান্য অসতর্কতাই ডেকে আনতে পারে বড় বিপর্যয়। তাই স্ক্যান করার আগে সর্বদা চোখ-কান খোলা রাখুন।