যুদ্ধের কোপ ময়দানের হেঁশেলে! চড়া দামে বিকোচ্ছে গ্যাস, ঝাঁপ বন্ধের মুখে কাজু দা’দের ক্যান্টিন!

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আঁচ এবার সরাসরি আছড়ে পড়ল গঙ্গার ধারের তিলোত্তমার ফুসফুস কলকাতা ময়দানে। দেশজুড়ে এলপিজি গ্যাসের যে তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে, তার জেরে নাভিশ্বাস উঠেছে ময়দানের শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাব ক্যান্টিনগুলোর। মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল থেকে সেন্ট্রাল এক্সাইজ— সর্বত্রই এখন আলোচনার বিষয় একটাই, ‘গ্যাস মিলবে তো?’ গ্যালারির আবেগ আর মাঠের ঘাম যখন এক হচ্ছে, তখন নেপথ্যে কাজু দা, শক্তি দা’দের কপালে চিন্তার ভাঁজ।
ময়দানের ক্যান্টিন মালিকদের দাবি, গ্যাসের অভাবের চেয়েও বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে কালোবাজারি। যে সিলিন্ডার আগে ১৭০০ টাকায় মিলত, এখন তার জন্য দিতে হচ্ছে ৩৫০০ টাকা। মোহনবাগান ক্যান্টিনের পরিচিত মুখ পলাশ মুখোপাধ্যায় ওরফে কাজু দা জানালেন, “ক্যান্টিন বন্ধের খবর রটেছিল, সেটা ঠিক নয়। তবে পরিস্থিতি সত্যিই ভয়াবহ। দ্বিগুণ দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে। যারা নিয়মিত আমাদের এখানে খায়, তাদের কথা ভেবে এখনই লাভ-ক্ষতি দেখছি না। কিন্তু এভাবে কতদিন চালানো যাবে?” একই সুর ইস্টবেঙ্গল ক্যান্টিনের ব্যবস্থাপক তমাল মিত্রের গলাতেও। তাঁর সংগ্রহে রয়েছে মাত্র একটি সিলিন্ডার। এরপর কী হবে, তা জানা নেই কারও।
ময়দানে বর্তমানে ক্রিকেট লিগ এবং স্কুল ফুটবলের মরসুম চলছে। ফলে ক্যান্টিনগুলোতে ভিড় উপচে পড়ছে। কিন্তু জ্বালানির সংকটে চিকেন স্টু, ঘুগনি বা ডাল-ভাতের জোগানে কাটছাঁট করতে হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অনেক মালিকই আক্ষেপ করে বলছেন, কয়েক দশক আগের কয়লার উনুনের দিনগুলোই হয়তো এর চেয়ে ভালো ছিল। কোভিডকালেও এমন সংকটের মুখে পড়তে হয়নি বলে দাবি ময়দানি হেঁশেল সামলানো এই কারিগরদের।