ধ্বংসস্তূপের মাঝেও আকাশছোঁয়া মনোবল! কুদস দিবসে তেহরানের রাজপথ থেকে আমেরিকাকে কড়া বার্তা!

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের ১৪তম দিনে যখন ইজরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্রের শব্দে কাঁপছে আকাশ, ঠিক তখনই বিশ্বকে নিজের শক্তির প্রমাণ দিল ইরান। ইজরায়েলি সেনার ‘ইভ্যাকুয়েশন ওয়ার্নিং’ বা এলাকা ছাড়ার কড়া নির্দেশ উড়িয়ে দিয়ে শুক্রবার তেহরানের রাজপথে আছড়ে পড়ল লাখো মানুষের ঢল। কুদস দিবসের এই বিশাল সমাবেশ থেকে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি (Abbas Araghchi) সাফ জানিয়ে দিলেন, হামলা চালিয়ে বা ভয় দেখিয়ে ইরানকে আত্মসমর্পণ করানো অসম্ভব।

শহর জুড়ে যখন বিস্ফোরণের ধোঁয়া আর ধ্বংসাবশেষের চিহ্ন স্পষ্ট, ঠিক তখনই এনগেলাব ও ফেরদৌসি স্কোয়ারের ভিড়ে মিশে যান আরাঘচি স্বয়ং। তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আজকের এই জনসমুদ্র প্রমাণ করে দিচ্ছে যে জায়নিস্ট শাসন ও আমেরিকার নির্মম হামলা সত্ত্বেও ইরানিরা পিছু হটবে না। শত্রুরা আমাদের জনগণের ইস্পাতকঠিন সংকল্পকে স্বীকার করতে বাধ্য হবে।” সমাবেশে অংশ নিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান থেকে শুরু করে উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক কর্তারাও। এমনকি বৃষ্টির মধ্যে ভিজেও সাধারণ মানুষকে রাষ্ট্রীয় পতাকায় মুড়ে ইজরায়েল-বিরোধী স্লোগান দিতে দেখা যায়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে ইরানের সামরিক ঘাঁটি থেকে শুরু করে নিউক্লিয়ার সাইট ও তেল শোধনাগারগুলি লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। দেড় হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু এবং ধসে পড়া অর্থনীতির মাঝে দাঁড়িয়েও তেহরানের দাবি— এই লড়াই জাতীয় নীতির। আরাঘচি সতর্ক করেছেন যে, ইরানের ওপর এই হামলার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে তেহরানের এই অনড় মনোভাব মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলল বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল।