‘মহিলাদের কাজে নিতে চাইবে না কেউ’, পিরিয়ড লিভ নিয়ে কড়া বার্তা প্রধান বিচারপতির!

কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের ঋতুকালীন ছুটি (Menstrual Leave) কি তাঁদের অধিকার, নাকি এটিই তাঁদের ক্যারিয়ারের পথে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে? শুক্রবার এই স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অত্যন্ত কড়া এবং বাস্তবসম্মত পর্যবেক্ষণ দিল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের সাফ কথা, এই ধরণের ছুটি যদি আইনের মাধ্যমে বাধ্যতামূলক করা হয়, তবে আদতে মহিলাদের কর্মসংস্থানের সুযোগই তলানিতে এসে ঠেকবে।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ এদিন এই সংক্রান্ত একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, আদালত এই দাবি গ্রহণ করবে না। বিচারপতিদের মতে, স্কুল-কলেজের ছাত্রী বা কর্মরতা মহিলাদের জন্য পিরিয়ড লিভ বাধ্যতামূলক করার অর্থ হলো নিয়োগকর্তাদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করা। এর ফলে বেসরকারি সংস্থাগুলি মহিলাদের নিয়োগ করার ক্ষেত্রে অনীহা প্রকাশ করবে। প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, “যখনই আপনি আইনের মাধ্যমে একে বাধ্যতামূলক করবেন, তখন কেউ আর মহিলাদের কাজ দিতে চাইবে না। বিচার বিভাগ হোক বা সরকারি চাকরি— সর্বত্র তাঁদের সুযোগ শেষ হয়ে যাবে। তখন বলা হবে, আপনারা বরং বাড়িতেই বসে থাকুন।”
আদালত আরও মনে করে যে, ঋতুস্রাবের মতো একটি স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় বিষয়কে ছুটির আওতায় এনে একে নেতিবাচক বা ‘দুর্বলতা’ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। যদি কোনও সংস্থা স্বেচ্ছায় এই ছুটি দিতে চায়, তবে তাকে স্বাগত জানানো যেতে পারে। কিন্তু আইন করে এটি চাপিয়ে দিলে নারীদের পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। মামলার আবেদনকারী শৈলেন্দ্র মণি ত্রিপাঠি কেরলের উদাহরণ টেনে আনলেও আদালত জানায়, একটি নির্দিষ্ট নীতি তৈরির আগে সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা প্রয়োজন। শেষ পর্যন্ত, মহিলাদের পেশাগত উন্নতির পথে বাধা হতে পারে এমন কোনও সিদ্ধান্ত থেকে আদালত বিরত থাকল।