মধ্যপ্রাচ্যের রণাঙ্গনে বলি ভারতীয় কৃষক! চাল-চা-সার নিয়ে কেন ঘনিয়ে আসছে ঘোর বিপদ?

পৃথিবী যখন কার্যত ধ্বংসের কিনারায় দাঁড়িয়ে, তখন মধ্যপ্রাচ্যের আগুনের তাপ এসে লাগল ভারতীয় কৃষকের খামারে। আমেরিকা, ইজরায়েল এবং ইরানের ত্রিমুখী সংঘাতের জেরে এক ভয়াবহ ভূ-রাজনৈতিক সংকটের মুখে ভারত। ইরান ও সৌদির তৈল শোধনাগারগুলোতে ড্রোন হামলা এবং হরমুজ প্রণালী কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় ভারতের কৃষি রফতানি থেকে শুরু করে সারের জোগান—সবই এখন প্রশ্নের মুখে।

তেলের বাজারে হাহাকার: পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেলের সরবরাহ হয়। ইরানের নিষেধাজ্ঞার ফলে এই পথ এখন যুদ্ধের ময়দান। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভারতের ওপর। কৃষি কাজে ব্যবহৃত ট্রাক্টর বা পণ্যবাহী ট্রাকের ডিজেল জোগাতে নাভিশ্বাস উঠছে। অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১০ থেকে ১২০ ডলারে পৌঁছানোর আশঙ্কায় কৃষিকাজের খরচ কয়েক গুণ বেড়ে যেতে পারে।

রফতানিতে বড় ধাক্কা: ভারতের বাসমতী চাল এবং চায়ের অন্যতম প্রধান বাজার মধ্যপ্রাচ্য। যুদ্ধের কারণে পণ্যবাহী জাহাজগুলো চলাচলে ভয় পাচ্ছে। ফলে বন্দরেই আটকে রয়েছে হাজার হাজার টন বাসমতী চাল ও চা। এর ফলে ভারতীয় কৃষকরা যেমন ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না, তেমনই আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় পণ্যের জায়গা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

সারের সংকট ও অশনি সংকেত: প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম কয়েক দিনে দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছে। রাশিয়ার পক্ষ থেকে ইউরোপে গ্যাস সরবরাহ বন্ধের হুঁশিয়ারি পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে। যেহেতু সার উৎপাদনের অন্যতম প্রধান উপাদান হলো প্রাকৃতিক গ্যাস, তাই আগামী দিনে সারের জোগান কমবে এবং দাম আকাশছোঁয়া হবে। অর্থাৎ, বীজ বোনা থেকে ফসল কাটা এবং তা বাজারে পৌঁছে দেওয়া—প্রতিটি ধাপে খরচের যে বোঝা চাপছে, তার চূড়ান্ত মাশুল দিতে হবে সাধারণ গ্রাহক ও ভারতীয় কৃষককেই।