রাষ্ট্রপতি কি তৃণমূলের ওপর রুষ্ট? জোড়া চিঠি ‘বাতিল’, রাইসিনা হিলসে এবার তৃতীয় চাল মমতার!

রাজ্যের আদিবাসী উন্নয়নের ‘রিপোর্ট কার্ড’ দেশের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাতে তুলে দিতে চায় তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু সেই সাক্ষাৎকারের আবেদন ঘিরেই এখন রাইসিনা হিলস ও কালীঘাটের মধ্যে তৈরি হয়েছে চরম টানাপোড়েন। একবার নয়, দু-দুবার সময় চেয়েও রাষ্ট্রপতির দেখা পাননি তৃণমূল সাংসদরা। এবার তৃতীয় চিঠি পাঠানোর তোড়জোড় শুরু করেছে জোড়াফুল শিবির।

সংঘাতের সূত্রপাত: ঘটনার সূত্রপাত গত শনিবার। আন্তর্জাতিক আদিবাসী কনফারেন্সে যোগ দিতে শিলিগুড়ি এসেছিলেন রাষ্ট্রপতি। সেখানে সভাস্থল পরিবর্তন নিয়ে খোদ রাষ্ট্রপতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। বাগডোগরার কাছে গোঁসাইপুরে অনুষ্ঠান হলেও, রাষ্ট্রপতি বিধাননগরে অনুষ্ঠান করতে চেয়েছিলেন। নিরাপত্তা ও জায়গার অভাব দেখিয়ে রাজ্য সরকার সভাস্থল বদলে দেওয়ায় রাষ্ট্রপতি প্রকাশ্য মঞ্চেই মন্তব্য করেছিলেন, “হয়তো আমার ছোট বোন (মুখ্যমন্ত্রী) কোনও কারণে আমার ওপর রুষ্ট হয়েছেন, তাই এখানে সভা করতে দিলেন না।” রাষ্ট্রপতির এই আবেগী মন্তব্যকে হাতিয়ার করে বিজেপি অভিযোগ তোলে যে, এক আদিবাসী রাষ্ট্রপতিকে অপমান করেছে তৃণমূল সরকার।

চিঠি-চাপাটির খেলা: এই বিতর্ক ধামাচাপা দিতে এবং রাজ্যে আদিবাসীদের জন্য সরকার কী কী কাজ করেছে তার খতিয়ান দিতে উদ্যোগী হয় তৃণমূল। ১২ থেকে ১৫ জন সাংসদের একটি প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করার সময় চেয়ে প্রথম চিঠিটি পাঠান। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি ভবন সেই আবেদন খারিজ করে জানায়, রাষ্ট্রপতি আপাতত সময় দিতে পারছেন না। এর পরপরই দ্বিতীয়বার চিঠি পাঠানো হলেও রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে কোনও সদুত্তর মেলেনি।

তৃতীয় চিঠির তোড়জোড়: সূত্রের খবর, আগামী সপ্তাহে রাইসিনা হিলসে তৃতীয়বার চিঠি পাঠাতে চলেছে তৃণমূল। রাজনৈতিক মহলের মতে, রাষ্ট্রপতি ও বাংলার সরকারের মধ্যে তৈরি হওয়া এই ‘দূরত্ব’ মেটাতেই মরিয়া শাসকদল। তবে প্রশ্ন উঠছে, শিলিগুড়ির সেই বিতর্কিত সভার কারণেই কি রাষ্ট্রপতি ভবন তৃণমূলকে এড়িয়ে চলছে? প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্বয়ং যে বিষয়টিকে ‘আদিবাসী অপমান’ বলে দেগে দিয়েছেন, সেই আবহে তৃণমূলের ‘রিপোর্ট কার্ড’ রাষ্ট্রপতি গ্রহণ করবেন কি না, সেটাই এখন দেখার।