৩৪৩ থেকে ২৪০-এর খোঁচায় কাজ হলো না! মহুয়ার স্বস্তি কেড়ে বড় নির্দেশ শীর্ষ আদালতের

‘টাকার বিনিময়ে প্রশ্ন’ (Cash-for-Query) মামলায় ফের আইনি প্যাঁচে জড়ালেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট দিল্লি হাইকোর্টের সেই নির্দেশের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করেছে, যা মহুয়ার বিরুদ্ধে সিবিআই-কে চার্জশিট পেশ করতে বাধা দিয়েছিল। শীর্ষ আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে মহুয়ার বিরুদ্ধে তদন্ত চালিয়ে যাওয়া এবং চার্জশিট পেশ করার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সামনে আর কোনও আইনি বাধা রইল না।
আইনি লড়াইয়ের প্রেক্ষাপট: বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবের আনা অভিযোগের ভিত্তিতে লোকপাল সিবিআই-কে মহুয়ার বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশের অনুমতি দিয়েছিল। কিন্তু গত ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে দিল্লি হাইকোর্ট সেই অনুমতি খারিজ করে দেয় এবং তদন্তকারী সংস্থাকে জানায় যে তারা চার্জশিট পেশ করতে পারবে না। হাইকোর্টের সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল লোকপাল। শুক্রবার বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ হাইকোর্টের রায়ের সেই ৮৯ নম্বর অনুচ্ছেদের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করল, যেখানে লোকপালকে দেওয়া সিবিআই-এর অনুমতি প্রত্যাহার করতে বলা হয়েছিল।
অস্বস্তি বাড়ল সাংসদের: শুধু স্থগিতাদেশই নয়, শীর্ষ আদালত মহুয়া মৈত্রর কাছে এই মামলার বিষয়ে তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য জানতে চেয়েছে। একইসঙ্গে সিবিআই এবং অভিযোগকারী নিশিকান্ত দুবেকেও নিজেদের হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। লোকসভা থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর ২০২৪-এর নির্বাচনে জয়ী হয়ে মহুয়া যখন সংসদে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণের ঝাঁঝ বাড়াচ্ছিলেন, ঠিক সেই সময়েই এই আইনি মোড় তাঁর ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
অভিযোগের শিকড় ও বর্তমান পরিস্থিতি: ২০২৩ সালে দুবাইয়ের ব্যবসায়ী দর্শন হিরানন্দানির থেকে অর্থ ও উপহারের বিনিময়ে সংসদে আদানির বিরুদ্ধে প্রশ্ন করার অভিযোগ ওঠে মহুয়ার বিরুদ্ধে। সংসদের এথিক্স কমিটি তাঁর সাংসদ পদ খারিজের সুপারিশ করেছিল। ২০২৪-এ পুনরায় জিতে আসার পর মহুয়া দাবি করেছিলেন যে, জনগণ তাঁকে ভোট দিয়ে এই ‘অন্যায়ের’ জবাব দিয়েছে। তবে সুপ্রিম কোর্টের আজকের এই নির্দেশের পর মহুয়ার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া ফের গতি পেতে চলেছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সিবিআই তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে।