নিয়োগকর্তাদের মানসিকতা বুঝুন! ঋতুকালীন ছুটি নিয়ে পিটিশন খারিজের পথে সুপ্রিম কোর্ট

কাজের জায়গায় নারীদের জন্য ‘মেন্সট্রুয়াল লিভ’ বা ঋতুকালীন ছুটি বাধ্যতামূলক করার আবেদন নিয়ে বড়সড় পর্যবেক্ষণ দিল সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার এক জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এই ধরনের আইন নারীদের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে হিতে বিপরীত হতে পারে। আদালতের মতে, আইন করে এই ছুটি বাধ্যতামূলক করলে নিয়োগকর্তারা নারীদের কাজে নিতে আগ্রহ হারাবেন, যা প্রকারান্তরে নারী ক্ষমতায়নকে বাধাগ্রস্ত করবে।
প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, “নিয়োগকর্তাদের মানসিকতা সম্পর্কে আপনাদের ধারণা নেই। যখনই কোনো বিষয় আইনের মাধ্যমে বাধ্যতামূলক করা হয়, তখন তারা মনে করতে পারেন যে নারীরা পুরুষদের তুলনায় কম দক্ষ এবং তাদের বাড়িতে থাকাই ভালো। এতে নারীদের মনেও হীনম্মন্যতা তৈরি হতে পারে।” আইনজীবী শৈলেন্দ্র মণি ত্রিপাঠীর দায়ের করা এই মামলায় আদালত স্পষ্ট জানায় যে, সচেতনতা তৈরি করা আর আইন চাপিয়ে দেওয়া এক বিষয় নয়।
তবে আদালত ঋতুকালীন স্বাস্থ্যবিধির গুরুত্ব অস্বীকার করেনি। গত জানুয়ারিতেই সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, ঋতুকালীন স্বাস্থ্য রক্ষা করা সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে স্বাস্থ্যের অধিকারের অংশ। তাই ছুটির বদলে স্কুল ও কর্মক্ষেত্রে স্যানিটারি ন্যাপকিন সরবরাহ, পৃথক শৌচাগার নিশ্চিত করা এবং সচেতনতা প্রসারের ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিচারপতিরা। আদালতের এই পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, পরিকাঠামো উন্নয়নই নারী কর্মীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী সমাধান হতে পারে।