আলাপনকাণ্ডের ছায়া এবার পাহাড়ে! রাষ্ট্রপতির সফরে গাফিলতির দায়ে সরানো হলো জেলাশাসক ও সিপি-কে

রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর উত্তরবঙ্গ সফর ঘিরে তৈরি হওয়া নজিরবিহীন প্রোটোকল লঙ্ঘনের জেরে শেষ পর্যন্ত কড়া পদক্ষেপ নিল প্রশাসন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কড়া সুপারিশ এবং চাপের মুখে পড়ে দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক মণিশ মিশ্রকে সরিয়ে দিল নবান্ন। একই সঙ্গে সুপারিশ করা হয়েছে শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার সি সুধাকরকেও সরানোর। শিলিগুড়িতে রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানস্থলের শেষ মুহূর্তের পরিবর্তন এবং নিরাপত্তাজনিত গাফিলতির দায় শেষ পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের ওপরেই বর্তাল।

ঘটনার সূত্রপাত গত ৭ মার্চ। আন্তর্জাতিক আদিবাসী ও সাঁওতাল কাউন্সিলের সম্মেলনে যোগ দিতে শিলিগুড়িতে এসেছিলেন রাষ্ট্রপতি। অভিযোগ ওঠে, তাঁর অনুষ্ঠানস্থল ফাঁসিদেওয়া থেকে সরিয়ে হঠাৎ বাগডোগরার গোসাইপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। খোদ রাষ্ট্রপতি খোলা মঞ্চ থেকেই এই অব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন। এমনকি মুখ্যমন্ত্রীকে ‘বোন’ সম্বোধন করেও তিনি আক্ষেপ করেছিলেন যে, তাঁকে এ রাজ্যে ঠিকমতো আসতে দেওয়া হয় না। এই ইস্যুতেই তোলপাড় হয় জাতীয় রাজনীতি। অমিত শাহের নেতৃত্বাধীন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, রাষ্ট্রপতির প্রোটোকল রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন জেলাশাসক ও পুলিশ কমিশনার।

নবান্নের সাম্প্রতিক নির্দেশিকা অনুযায়ী, দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক মণিশ মিশ্রকে সরিয়ে স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরের বিশেষ সচিব করা হয়েছে। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন সুনীল আগরওয়াল। এই ঘটনা ২০২১ সালের আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় ও প্রধানমন্ত্রী মোদীর কলাইকুণ্ডা বৈঠকের সেই বিতর্কিত স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের দাবি, “রাষ্ট্রপতির অপমান মানে দেশের অপমান, তাই এই শাস্তি জরুরি ছিল।” অন্যদিকে, নির্বাচনের মুখে এই রদবদল নিয়ে ক্ষুব্ধ তৃণমূল কংগ্রেস। শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেবের মতে, এই ঘটনার নেপথ্য কারণ মানুষের কাছে পরিষ্কার। কেন্দ্র-রাজ্য এই নব্য সংঘাত আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।