আকাশ থেকে আগুন ঝরলেও শুকাবে না গোলাপ! চৈত্র-বৈশাখের দাবদাহে বাগান হাসাতে মেনে চলুন এই ৫ নিয়ম

বসন্ত বিদায় নিতেই চড়চড়িয়ে বাড়ছে তাপমাত্রা। আর এই চড়া রোদের সবথেকে বেশি প্রভাব পড়ে বাগানের রানি ‘গোলাপ’-এর ওপর। অতিরিক্ত তাপে গাছের পাতা পুড়ে যাওয়া, কুঁড়ি ঝরে পড়া বা গাছ শুকিয়ে যাওয়ার সমস্যায় জেরবার বাগানপ্রেমীরা। কিন্তু আপনি কি জানেন, সঠিক পদ্ধতি মানলে ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের প্রখর রোদেও আপনার গোলাপ বাগান ফুলে ফুলে ভরে থাকতে পারে? এই বিশ্ব ঘুম দিবসের দুপুরে যখন রোদে চারপাশ খাঁ খাঁ করছে, তখন আপনার শখের বাগানকে সতেজ রাখার ৫টি অব্যর্থ কৌশল দেখে নিন।
১. জল দেওয়ার সঠিক সময় ও পদ্ধতি গরমকালে গোলাপ গাছে জল দেওয়ার আদর্শ সময় হলো খুব ভোরে অথবা সূর্য ডোবার পর। দুপুরের কড়া রোদে ভুল করেও জল দেবেন না, এতে শিকড় সেদ্ধ হয়ে গাছ মারা যেতে পারে। খেয়াল রাখবেন যেন গাছের গোড়ার মাটি ভিজে থাকে, কিন্তু কাদা না হয়। গাছের পাতায় জল স্প্রে করা বা ‘শাওয়ারিং’ করলে গাছ সতেজ থাকে।
২. মালচিং: মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখার কবচ মাটির ভেতরের জল যাতে দ্রুত বাষ্পীভূত না হয়, তার জন্য ‘মালচিং’ অত্যন্ত জরুরি। গাছের গোড়ার চারপাশ শুকনো পাতা, খড় বা নারকেলের ছোবড়া দিয়ে ঢেকে দিন। এতে মাটির তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং শিকড় ঠান্ডা থাকে।
৩. ছায়া বা শেড নেটের ব্যবহার গোলাপ রোদ ভালোবাসলেও গ্রীষ্মের দুপুরের রোদ তার সহ্যশক্তির বাইরে। যদি টবে গাছ থাকে, তবে দুপুরের সময়টুকু ছায়ায় সরিয়ে রাখুন। আর মাটিতে গাছ থাকলে ওপরে একটি সবুজ ‘শেড নেট’ ব্যবহার করুন। সরাসরি সূর্যের তাপ থেকে বাঁচলে ফুল ঝরবে না।
৪. হালকা জৈব সারের প্রয়োগ গরমে কড়া রাসায়নিক সার ব্যবহার করা গাছের জন্য বিষের সমান। এই সময় ভার্মিকম্পোস্ট বা পচানো গোবর সারের মতো হালকা জৈব সার ব্যবহার করুন। এতে গাছের প্রয়োজনীয় পুষ্টি মিলবে কিন্তু শিকড় পুড়বে না।
৫. প্রুনিং বা ছাঁটাই গাছের মরা ডাল বা শুকনো ফুল নিয়মিত কেটে ফেলুন। একে বলে ‘ডেড হেডিং’। এতে গাছের বাড়তি শক্তি নষ্ট হয় না এবং নতুন কুঁড়ি আসার পথ সুগম হয়। গাছ পরিষ্কার থাকলে ছত্রাকের আক্রমণও কম হয়।
এই সামান্য কটি নিয়ম মানলেই আপনার বাগান এই অসহ্য গরমেও হয়ে উঠবে পাড়ার সেরা আকর্ষণ।