ইসলামি মূল্যবোধ প্রচারকের সমকামিতার ভিডিও ফাঁস! ইরানে তোলপাড়, কড়া শাস্তির মুখে উচ্চপদস্থ আধিকারিক

ইরানের কট্টরপন্থী শাসনের অন্দরে এক নজিরবিহীন নৈতিক কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে আসায় তোলপাড় শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। উত্তর ইরানের গিলান প্রদেশের সংস্কৃতি ও ইসলামি নির্দেশনা দপ্তরের প্রধান রেজা ৎসঘাতিকে (Reza Tsaghati) ঘিরে একটি বিতর্কিত যৌন ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁকে তড়িঘড়ি পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভিডিওটিতে দাবি করা হয়েছে, ওই উচ্চপদস্থ আধিকারিক অন্য এক পুরুষের সঙ্গে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত। যদিও ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তবে বিষয়টি নিয়ে চরম অস্বস্তিতে পড়েছে ইব্রাহিম রাইসির প্রশাসন।

নৈতিকতার নামে দ্বিচারিতা?
রেজা ৎসঘাতি ইরানে শুধু একজন প্রভাবশালী সরকারি কর্মকর্তাই ছিলেন না, তিনি দেশটিতে কঠোর হিজাব আইন এবং ইসলামি নৈতিকতা প্রচারের জন্য একটি বিশেষ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা। সাধারণ মানুষের ওপর কঠোর শরিয়াহ আইন চাপিয়ে দেওয়ার কারিগর হিসেবে পরিচিত এই নেতার এমন ব্যক্তিগত ভিডিও সামনে আসায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন দেশটির সাধারণ মানুষ। সমালোচকদের মতে, এটি ইরানের শাসকগোষ্ঠীর চূড়ান্ত ভণ্ডামি ও দ্বিচারিতার প্রমাণ।

তদন্ত ও সরকারি প্রতিক্রিয়া:
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর গিলান প্রদেশের সংস্কৃতি বিভাগ জানিয়েছে, বিষয়টি বিচার বিভাগীয় তদন্তের অধীনে রয়েছে। ইরানের সংস্কৃতিমন্ত্রী মহম্মদ মেহেদী ইসমাইলি সাফাই দিয়েছেন যে, এই ঘটনার আগে রেজা ৎসঘাতির বিরুদ্ধে কোনো নেতিবাচক অভিযোগ সরকারের কাছে ছিল না। সরকারি বিবৃতিতে এই ঘটনাকে ‘সন্দেহজনক আচরণ’ বলে অভিহিত করা হলেও, একই সঙ্গে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে কেউ যেন ইসলামি বিপ্লবের সম্মান ক্ষুণ্ণ না করে।

কঠোর আইন ও বৈষম্যের প্রশ্ন:
ইরানে সমকামিতা একটি মারাত্মক অপরাধ, যার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। একদিকে যখন হিজাব না পরা বা ধর্মীয় বিধান সামান্য লঙ্ঘনের দায়ে মাহসা আমিনীর মতো তরুণীদের জীবন দিতে হয়, সেখানে একজন প্রভাবশালী কর্মকর্তার এমন আচরণ ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। ভিডিওটি প্রথম প্রকাশ করে ‘রেডিও গিলান’ নামক একটি সরকারবিরোধী চ্যানেল, যারা দাবি করেছে তারা প্রশাসনের দুর্নীতির মুখোশ খুলে দেওয়া চালিয়ে যাবে। এই কেলেঙ্কারি বর্তমানে ইরানের শরিয়াহ আইন, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং ক্ষমতাসীনদের ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে দেশজুড়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।