১ এপ্রিল থেকে আমূল বদলে যাচ্ছে ইনকাম ট্যাক্সের ৭ নিয়ম! আপনার পকেটে কি টান পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিত

আগামী ১ এপ্রিল, ২০২৬ থেকে শুরু হচ্ছে নতুন অর্থবর্ষ। আর এই দিন থেকেই ভারতের কর কাঠামোয় এক ঐতিহাসিক অধ্যায় শুরু হতে চলেছে। কেন্দ্র সরকার কয়েক দশকের পুরনো ‘ইনকাম ট্যাক্স অ্যাক্ট ১৯৬১’-এর পরিবর্তে আধুনিক ‘ইনকাম ট্যাক্স অ্যাক্ট ২০২৫’ কার্যকর করার প্রস্তুতি চূড়ান্ত করে ফেলেছে। এই পরিবর্তনের ঢেউ আছড়ে পড়বে সাধারণ চাকরিজীবী থেকে শুরু করে বড় ব্যবসায়ী এবং শেয়ার বাজারের বিনিয়োগকারীদের ওপর। আপনি যদি আগামী দিনে আয়কর সংক্রান্ত জটিলতা এড়াতে চান এবং সঠিক ট্যাক্স প্ল্যানিং করতে চান, তবে ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া এই ৭টি পরিবর্তন অবশ্যই আপনার নখদর্পণে থাকা প্রয়োজন।
১. শেয়ার বাইব্যাকের নতুন নিয়ম:
বিনিয়োগকারীদের জন্য সবথেকে বড় ধাক্কা হতে পারে শেয়ার বাইব্যাকের নিয়ম পরিবর্তন। আগে কোনো কোম্পানি শেয়ার বাইব্যাক করলে কর দেওয়ার দায়িত্ব ছিল সেই কোম্পানির। কিন্তু ১ এপ্রিল থেকে বাইব্যাক থেকে প্রাপ্ত আয় সরাসরি ‘ক্যাপিটাল গেন’ হিসেবে গণ্য হবে। অর্থাৎ, এখন থেকে শেয়ারহোল্ডারদের নিজেদের আয়ের স্ল্যাব অনুযায়ী এই লাভের ওপর কর দিতে হবে।
২. বিদেশ ভ্রমণে স্বস্তি (TCS হ্রাস):
বিদেশে পড়াশোনা বা চিকিৎসার জন্য টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে বড় সুখবর দিচ্ছে সরকার। লিবারালাইজড রেমিট্যান্স স্কিম (LRS)-এর অধীনে ৭ লক্ষ টাকার বেশি লেনদেনে TCS-এর হার ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ করা হয়েছে। এর ফলে মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর করের বোঝা অনেকটাই লাঘব হবে।
৩. শেয়ার বাজারে লেনদেন মহার্ঘ (STT বৃদ্ধি):
ফিউচার অ্যান্ড অপশন (F&O) ট্রেডারদের জন্য চিন্তার খবর। অপশন বিক্রির ওপর STT বাড়িয়ে ০.১ শতাংশ এবং ফিউচার বিক্রির ক্ষেত্রে ০.০২ শতাংশ করা হয়েছে। এতে ছোট ও খুচরো ব্যবসায়ীদের ট্রেডিং খরচ বাড়বে, যা সরাসরি তাঁদের মুনাফায় প্রভাব ফেলবে।
৪. TDS সরলীকরণ ও ই-কমার্স স্বস্তি:
সরকার TDS ব্যবস্থা আরও স্বচ্ছ করছে। বিশেষ করে সরকারি বন্ডের সুদের ওপর TDS কাটার প্রক্রিয়া এখন অনেক সহজ। এছাড়া, ই-কমার্স অপারেটরদের জন্য TDS-এর হার ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে মাত্র ০.১ শতাংশ করা হয়েছে, যা ক্ষুদ্র অনলাইন বিক্রেতাদের জন্য বড় জয়।
৫. স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন ও নতুন কর কাঠামো:
নতুন কর ব্যবস্থাকে (New Tax Regime) জনপ্রিয় করতে স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশনের ক্ষেত্রে কিছু বিশেষ সুবিধা দেওয়া হতে পারে। মধ্যবিত্ত করদাতাদের সঞ্চয় বাড়াতে কর স্ল্যাবেও ছোটখাটো রদবদলের ইঙ্গিত রয়েছে।
৬. চ্যারিটেবিল ট্রাস্টে কড়াকড়ি:
কর ফাঁকি রুখতে এবার কোপ পড়ছে চ্যারিটেবিল ট্রাস্টগুলোর ওপর। ট্রাস্টের রেজিস্ট্রেশন এবং কর ছাড়ের আবেদন এখন থেকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল এবং অনেক বেশি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হবে।
৭. বিদেশি সম্পদে ছাড় (Foreign Assets):
ভুলবশত বিদেশি সম্পত্তি প্রকাশ না করলে আগে চড়া জরিমানা দিতে হতো। এখন ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত মূল্যের বিদেশি সম্পদ বা ESOP-র ক্ষেত্রে তথ্য প্রকাশে সামান্য ভুল হলে ভারী জরিমানা থেকে রেহাই মিলবে।
নতুন এই নিয়মগুলি আপনার আর্থিক পরিকল্পনাকে সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে। তাই ১ এপ্রিলের আগেই আপনার বিনিয়োগ ও ট্যাক্স ফাইল গোছানো শুরু করে দিন।