হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে ৭০% তেল আনছে ভারত! যুদ্ধ চললেও কি ফুরোবে না জ্বালানি?

দেশজুড়ে চলা এলপিজি (LPG) সংকটের আশঙ্কার মাঝেই সংসদে বড় ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভারতের ৩৩৩ মিলিয়ন পরিবার যাতে গ্যাসের সমস্যার সম্মুখীন না হয়, তার জন্য জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তেল শোধনাগারগুলিকে এলপিজি উৎপাদন বাড়ানোর এবং শিল্পক্ষেত্রে গ্যাস সরবরাহ কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রীর দাবি, রান্নার গ্যাসের ঘাটতি যতটা না বাস্তব, তার চেয়ে বেশি ভোক্তাদের অহেতুক উদ্বেগের কারণে তৈরি হয়েছে।

রেস্তোরাঁ ও হোটেলের জন্য নতুন নিয়ম:
গ্যাস বাঁচাতে কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রক এক মাসের জন্য বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন থেকে হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলিকে রান্নার কাজে এলপিজির পরিবর্তে জৈববস্তু (biomass), কেরোসিন বা কয়লার মতো বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কালোবাজারি রুখতে বাণিজ্যিক এলপিজির মাসিক চাহিদার মাত্র ২০% বরাদ্দ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা রাজ্য সরকারগুলির সহযোগিতায় বণ্টন করা হবে।

আমদানি ও যুদ্ধের প্রভাব:
ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের ফলে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হলেও ভারত বিকল্প পথে জ্বালানি আনার কৌশল নিয়েছে। পুরী জানান, আগে ভারত ৬০% এলপিজি উপসাগরীয় দেশ থেকে আনত, কিন্তু এখন আমদানির উৎস বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে ভারতের মোট তেলের ৭০% আসছে হরমুজ প্রণালীর বাইরে থেকে, যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করেছে।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর মতে, দীর্ঘ সময় যুদ্ধ চললেও ভারতের পর্যাপ্ত গ্যাস উৎপাদন ও এলএনজি সরবরাহের ক্ষমতা রয়েছে। পেট্রোল ও ডিজেলের প্রাপ্যতাও সম্পূর্ণ নিরাপদ। মজুতদারি রুখতে কড়া নজরদারির বার্তাও দিয়েছেন তিনি। বিস্তারিত আপডেট ও জরুরি হেল্পলাইন নম্বর জানতে নিচের ভিডিওতে ক্লিক করুন।