সংসদ চত্বরে তৃণমূলের তীব্র প্রতিবাদ! রান্নার গ্যাসের আকালে বন্ধ ‘মা ক্যান্টিন’, ধুঁকছে সুন্দরবন!

রাজ্যজুড়ে রান্নার গ্যাসের (LPG) হাহাকার এখন চরমে। কেন্দ্রীয় সরকার আড়াই দিনে ডেলিভারির দাবি করলেও বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে শুক্রবার সংসদ চত্বরে সরব হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদেরা। মহুয়া মৈত্র, জুন মালিয়া, দোলা সেন এবং শতাব্দী রায়দের নেতৃত্বে প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ দেখান ঘাসফুল শিবিরের মহিলা সাংসদেরা। তাঁদের সাফ দাবি, কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে বাস্তবের কোনও মিল নেই; বহু পরিবার ১০ দিন অপেক্ষা করেও গ্যাস পাচ্ছে না।

গ্যাসের এই সংকটের প্রভাব পড়েছে সমাজের সর্বস্তরে। সুন্দরবনের মৎস্যজীবীরা বিপাকে পড়েছেন, কারণ বাণিজ্যিক সিলিন্ডার না মেলায় বহু ট্রলার মাঝসমুদ্রে মাছ ধরতে যেতে পারছে না। এর ফলে মৎস্যজীবীদের উপার্জনে টান পড়ার পাশাপাশি পুনরায় ম্যানগ্রোভের কাঠ কেটে উনুন জ্বালানোর আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে, বসিরহাটের ‘মা ক্যান্টিন’ টানা তিন দিন ধরে বন্ধ, যেখানে রোজ ৩০০-র বেশি মানুষ খাবার খেতেন। স্কুলগুলোতেও মিড-ডে মিলের জন্য আবার কাঠের উনুন ফিরছে।

রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গ্যাসের কালোবাজারির খবরও আসছে। জয়নগরে অটোতে অবৈধভাবে গ্যাস ভরা বা নদীয়ায় দ্বিগুণ দামে সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। শ্রীরামপুরের রাধাবল্লভ মন্দিরেও ভোগের মেনুতে কাটছাঁট করতে হয়েছে জ্বালানি সংকটের জেরে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী অবশ্য এই পরিস্থিতির জন্য পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধকে দায়ী করেছেন এবং আতঙ্ক না ছড়ানোর আবেদন জানিয়েছেন। তবে রাজ্য সরকার বসে নেই; কলকাতায় কালোবাজারি রুখতে এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ (EB) ময়দানে নেমেছে। বিভিন্ন গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটরের গুদামে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। রাজ্য সরকারের নতুন এসওপি (SOP) জারির পর এই নজরদারি আরও কড়া হয়েছে। বিস্তারিত জানতে নিচের ভিডিওতে ক্লিক করুন।