বাড়িতে ক’টি গ্যাস সিলিন্ডার রাখা বৈধ? আইন ভাঙলে হতে পারে জেল-জরিমানা!

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে দেশজুড়ে এলপিজি (LPG) সরবরাহে ব্যাপক টান পড়েছে। এই সংকটের সুযোগ নিয়ে একদল অসাধু চক্র যেমন কালোবাজারি শুরু করেছে, তেমনই অনেক সাধারণ মানুষ আতঙ্কে বাড়িতে গ্যাস মজুত করার চেষ্টা করছেন। এই উত্তাল পরিস্থিতির মাঝে ভারত সরকার এবং তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলো (OMCs) সিলিন্ডার বুকিং এবং মজুত রাখার ক্ষেত্রে কড়া নিয়মাবলী জারি করেছে। সাধারণ গ্রাহকদের আইনি ঝামেলা এড়াতে এই নিয়মগুলো জেনে রাখা অত্যন্ত জরুরি।

১ বছরে ক’টি সিলিন্ডার বুক করা যায়?
বর্তমানে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, একটি আর্থিক বছরে (এপ্রিল থেকে মার্চ) একটি পরিবার ১৪.২ কেজি ওজনের মোট ১২টি ভর্তুকিযুক্ত (Subsidised) সিলিন্ডার পাওয়ার অধিকারী। বছরে সর্বোচ্চ ১৫টি সিলিন্ডার পর্যন্ত বুক করা যেতে পারে, তবে ১২টির কোটা শেষ হয়ে গেলে বাকি ৩টি সিলিন্ডার বাজার দরে বা ভর্তুকিহীন মূল্যে কিনতে হবে। ৫ কেজির সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে এই বার্ষিক সীমা হলো ৩৪টি।

বুকিংয়ের সময়সীমা ও ব্যবধান:
মজুতদারি ও কালোবাজারি রুখতে সরকার নতুন সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে:

শহরাঞ্চলে: দুটি বুকিংয়ের মাঝে অন্তত ২৫ দিনের ব্যবধান থাকতে হবে।

গ্রাম ও দুর্গম এলাকায়: এই ব্যবধান বাড়িয়ে ৪৫ দিন করা হয়েছে।
তবে সরকার আশ্বাস দিয়েছে যে, বুকিং করার আড়াই দিনের (৬০ ঘণ্টা) মধ্যেই ডেলিভারি নিশ্চিত করা হবে।

আইনত বাড়িতে ক’টি সিলিন্ডার রাখা যায়?
সুরক্ষা বিধি অনুযায়ী, একজন গার্হস্থ্য গ্রাহক একবারে বাড়িতে সর্বোচ্চ ২টি সিলিন্ডার রাখতে পারেন (একটি ওভেনের সাথে যুক্ত এবং অন্যটি ব্যাকআপ হিসেবে)। এর বেশি সিলিন্ডার বাড়িতে রাখা দণ্ডনীয় অপরাধ। এলপিজি অত্যন্ত দাহ্য পদার্থ হওয়ায় অতিরিক্ত মজুত বড়সড় বিস্ফোরণের ঝুঁকি বাড়ায়। বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে ১০০ কেজির বেশি গ্যাস রাখতে হলে বিশেষ ‘ম্যানিফোল্ড’ সিস্টেম ও সেফটি অডিট বাধ্যতামূলক।

সতর্কবার্তা:
সংকটের সময়ে সিলিন্ডার মজুত করলে বা নিয়ম ভেঙে কালোবাজারি করলে জরিমানা, কারাদণ্ড এবং সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। তাই আতঙ্কিত না হয়ে সরকারি নিয়ম মেনে গ্যাস বুক করুন। বিস্তারিত তথ্য ও সুরক্ষা টিপস জানতে নিচের ভিডিওটি দেখুন।