বেডরুমে অন্য মহিলার সঙ্গে মন্ত্রীকে হাতেনাতে ধরলেন স্ত্রী! ‘প্রেম করা অপরাধ না’ বললেন মন্ত্রী

কেরলের বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (LDF) সরকারের অন্দরে আছড়ে পড়ল এক বিশাল কেলেঙ্কারি। রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী কে গণেশ কুমারের বিরুদ্ধে তাঁর স্ত্রী বিন্দু মেনন পরকীয়া এবং অশালীন আচরণের অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক মুখে এই ঘটনায় পিনারাই বিজয়ন সরকার চরম অস্বস্তিতে পড়েছে। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন, পরিস্থিতি সামাল দিতে মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ন হয়তো গণেশ কুমারকে মন্ত্রিত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিতে পারেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, বিন্দু মেনন অভিযোগ করেছেন যে তিনি তাঁর স্বামীকে তাঁদেরই শোবার ঘরে অন্য এক মহিলার সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় হাতেনাতে ধরে ফেলেন। তিনি মোবাইলে সেই দৃশ্যের ছবি ও ভিডিও তোলার চেষ্টা করলে মন্ত্রীর নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁর ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ। বিন্দু মেনন আরও জানিয়েছেন, এই ঘটনার পর তিনি এতটাই ভেঙে পড়েছিলেন যে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর মেয়ে বীণা বিজয়নকে ফোন করে সবটা জানান। পুলিশকে জানালেও তারা কোনও পদক্ষেপ নিতে রাজি হয়নি বলে তাঁর দাবি।
৬০ বছর বয়সী গণেশ কুমার পাথানাপুরম কেন্দ্র থেকে টানা পাঁচবারের বিধায়ক এবং কেরল কংগ্রেস (বি)-এর চেয়ারম্যান। তবে এই ধরনের বিতর্ক তাঁর জীবনে নতুন নয়। ২০১৩ সালেও ওম্মেন চান্ডি সরকারের সময় তাঁর প্রথম স্ত্রী যামিনী থানকাচি শারীরিক নির্যাতন ও পরকীয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন, যার ফলে তাঁকে মন্ত্রিত্ব ছাড়তে হয়েছিল। বর্তমান অভিযোগ প্রসঙ্গে গণেশ কুমার অবশ্য অবিচল। তাঁর সাফ কথা, “প্রেম কোনও অপরাধ নয়। প্রত্যেকেই জীবনে প্রেম অনুভব করে।” তিনি একে বিরোধীদের রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে আসরে নেমেছে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ (UDF)। বিরোধী দলনেতা ভি ডি সাথিশান প্রশ্ন তুলেছেন, “মন্ত্রীর স্ত্রী যদি ন্যায়বিচার না পান, তবে সাধারণ মহিলারা কোথায় যাবেন?” পিনারাই বিজয়নের নারী সুরক্ষা নিয়ে প্রচারকে ‘নাটক’ বলে কটাক্ষ করেছেন তিনি। নির্বাচনের আগে এই ‘সেক্স স্ক্যান্ডাল’ বাম সরকারের ভাবমূর্তিতে বড় ধাক্কা দিল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। বিস্তারিত দেখুন নীচের ভিডিওতে।