চাঁদের মাটিতে পা রাখার মহড়া? ১ এপ্রিল কেন বিশ্বের নজর থাকবে ফ্লোরিডার লঞ্চ প্যাডে?

মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে চলেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা (NASA) অবশেষে ঘোষণা করল তাদের ‘আর্টেমিস ২’ (Artemis II) মিশনের চূড়ান্ত তারিখ। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ১ এপ্রিল পৃথিবী ত্যাগ করে চাঁদের উদ্দেশে পাড়ি দেবে এই শক্তিশালী মহাকাশযান। বৃহস্পতিবার নাসার এক্সপ্লোরেশন সিস্টেম ডেভেলপমেন্ট মিশন ডিরেক্টরেটের পক্ষ থেকে এই ঐতিহাসিক অভিযানের কথা জানানো হয়েছে।
১৯৭২ সালের পর এই প্রথম মানুষ আবার চাঁদের এত কাছাকাছি পৌঁছতে চলেছে। ১০ দিনের এই মিশনে মোট চারজন মহাকাশচারী থাকছেন। এই দলের নেতৃত্বে রয়েছেন কমান্ডার রেইড উইশম্যান (Reid Wiseman), পাইলট হিসেবে থাকছেন ভিক্টর গ্লোভার (Victor Glover)। এছাড়াও মিশন বিশেষজ্ঞ হিসেবে রয়েছেন ক্রিশ্চানা কোচি (Christina Koch) এবং কানাডার স্পেস এজেন্সি থেকে জেরেমি হানসেন (Jeremy Hansen)। নাসা জানিয়েছে, ১ এপ্রিল ইস্টার্ন টাইম অনুযায়ী সন্ধে ৬টা ২৪ মিনিটে (ভারতীয় সময় ২ এপ্রিল ভোর ৪টে ৫৪ মিনিটে) ফ্লোরিডার লঞ্চ প্যাড থেকে গর্জে উঠবে অরিওন স্পেসক্রাফ্ট।
তবে আর্টেমিস ২ মিশনে মহাকাশচারীরা সরাসরি চাঁদের মাটিতে নামবেন না। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো চাঁদের চারপাশের নির্দিষ্ট কক্ষপথে প্রদক্ষিণ করা এবং অরিওন মহাকাশযানের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা। চাঁদের কক্ষপথে থাকার সময় মহাকাশচারীরা প্রায় ৩ ঘণ্টা সময় পাবেন চাঁদকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য। তাঁরা সেখান থেকে উচ্চমানের ছবি তুলবেন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক তথ্য সংগ্রহ করবেন।
আসলে এই মিশনটি ২০২৭ সালের ‘আর্টেমিস ৩’ অভিযানের একটি মহড়া। আর্টেমিস ৩ মিশনেই নাসার পরিকল্পনা রয়েছে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে সরাসরি মানুষ নামানোর। সেই জটিল অভিযানের আগে আর্টেমিস ২-এর সাফল্য নাসার বিজ্ঞানীদের আত্মবিশ্বাস কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেবে। বর্তমানে রকেট ও লঞ্চ প্যাডের শেষ মুহূর্তের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। মহাকাশপ্রেমীরা এখন চাতক পাখির মতো চেয়ে আছেন ১ এপ্রিলের সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের দিকে। বিস্তারিত জানতে নিচের ভিডিওটি দেখুন।