রান্নার গ্যাস নিয়ে হাহাকার? হরমুজ প্রণালিতে আটকে ভারতের ৮টি জাহাজ!

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্র এখন ভারতের রান্নাঘরের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইজরায়েল-ইরান সংঘাতের জেরে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। আর এর ফলেই চরম সংকটে পড়েছে ভারতের এলপিজি (LPG) বা রান্নার গ্যাসের সরবরাহ। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক যে, বর্তমানে হরমুজ প্রণালির ঠিক মুখে ভারতের আটটি এলপিজি ট্যাঙ্কার বা বিশালাকার জাহাজ আটকা পড়ে আছে।
এই অচলাবস্থা কাটাতে এবং দেশে গ্যাসের জোগান স্বাভাবিক রাখতে এবার সরাসরি ইরানের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনায় বসেছে ভারত। সরকারি সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ইতিমধ্যেই ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে একাধিকবার ফোনে কথা বলেছেন। নয়াদিল্লির লক্ষ্য একটাই— যেভাবেই হোক ওই আটটি জাহাজকে নিরাপদে ভারতের বন্দরে নিয়ে আসা।
ভারত তার মোট এলপিজি চাহিদার প্রায় ৬০ থেকে ৬৭ শতাংশ আমদানি করে সৌদি আরব ও কাতারের মতো উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে। এই আমদানির সিংহভাগই আসে হরমুজ প্রণালি হয়ে। ফলে এই রুট বন্ধ হওয়া মানেই ভারতের কয়েক কোটি মানুষের রান্নাঘরে টান পড়া। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারতের ‘ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট গ্রুপ’ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু করেছে।
অন্যদিকে, কূটনৈতিক এই দরকষাকষিতে মানবিক দিকটিও উঠে এসেছে। ভারতে বর্তমানে প্রায় ২৫০ জন ইরানি নাবিক আটকে রয়েছেন, যাঁরা দেশে ফেরার অপেক্ষায়। ভারত সরকার তাঁদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছে এবং তাঁদের নিরাপদে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইরানও ভারতের এই পদক্ষেপে সহযোগিতা করছে বলে জানা গিয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের আশা, খুব দ্রুত এই জট কাটবে এবং রান্নার গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক হবে। যুদ্ধের আবহে ভারত কীভাবে নিজের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, এখন সেটাই দেখার।