সংসদে ‘এলপিজি’ গর্জন! প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর নিয়ে তুঙ্গে বিক্ষোভ, উত্তাল দিল্লি

সারা দেশজুড়ে রান্নার গ্যাসের তীব্র সংকটের অভিযোগে বৃহস্পতিবার উত্তাল হয়ে উঠল সংসদ চত্বর। তৃণমূল কংগ্রেস ও বিরোধী দলগুলোর সাংসদরা এদিন মকর দ্বারের সামনে জড়ো হয়ে ‘এলপিজি, এলপিজি’ স্লোগানে আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে তোলেন। বিরোধীদের নিশানায় ছিলেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দেন— “কাতার মে খাড়ে হিন্দুস্তান, মোদী ঘুমে চিন জাপান।” অর্থাৎ মধ্যপ্রাচ্যের সংকটে ভারতীয়রা যখন নাজেহাল, তখন প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফরে ব্যস্ত।
বিক্ষোভ চলাকালীন কংগ্রেস সাংসদ জেবি মাথের অভিযোগ করেন যে, পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি বাস্তব পরিস্থিতি অস্বীকার করছেন। তাঁর দাবি, সরকার সংকট স্বীকারই করতে চাইছে না। এদিকে জয়রাম রমেশ সরাসরি আক্রমণ শানিয়ে বলেন, পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা ভারতের অর্থনীতি ও জ্বালানিতে কী প্রভাব ফেলছে, তা নিয়ে আলোচনা করতে ভয় পাচ্ছে মোদী সরকার। রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে বিরোধীরা স্পষ্ট জানান, দেশের সাধারণ মানুষের হেঁশেল এখন বিপন্ন, আর সরকার মুখ ফিরিয়ে রয়েছে।
পাল্টা জবাবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি লোকসভায় দাবি করেন, দেশে এলপিজি উৎপাদন প্রায় ২৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। তিনি আশ্বস্ত করেন যে পেট্রোল, ডিজেল বা কেরোসিনের কোনো অভাব নেই। তবে চাহিদা সামলাতে এবং কালোবাজারি রুখতে সরকার নতুন নিয়ম জারি করেছে। এখন থেকে শহরাঞ্চলে একবার গ্যাস বুক করার পর পরবর্তী বুকিংয়ের জন্য কমপক্ষে ২৫ দিনের ব্যবধান রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া ৯৫ শতাংশ ক্ষেত্রে ডেলিভারি অথেন্টিকেশন কোড (DAC) ব্যবস্থা চালু হয়েছে। মন্ত্রী দাবি করেন, সংকট থাকলেও বুকিং থেকে ডেলিভারি পর্যন্ত গড় সময় এখনও মাত্র ২.৫ দিন।