‘বাবা ভাঙ্গা’ কি পুরুষ না মহিলা? নামের রহস্য লুকিয়ে স্লাভিক ভাষায়, জানলে চমকে যাবেন

বিশ্বজুড়ে রহস্যময় সব ভবিষ্যদ্বাণীর জন্য পরিচিত বুলগেরিয়ার অন্ধ ভবিষ্যদ্বক্তা বাবা ভাঙ্গা। ৯/১১ হামলা থেকে শুরু করে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন—তাঁর করা অনেক ভবিষ্যদ্বাণী মিলে গিয়েছে বলে বিশ্বাস করেন লক্ষ লক্ষ মানুষ। তবে তাঁর নামের আগে থাকা ‘বাবা’ শব্দটি নিয়ে অনেকের মনেই দীর্ঘকাল ধরে কৌতূহল ছিল। অনেকে ভাবেন এটি হয়তো কোনো ধর্মীয় উপাধি বা তাঁর পিতৃপ্রদত্ত নাম। কিন্তু বাস্তবে এই শব্দের অর্থ সম্পূর্ণ আলাদা এবং অত্যন্ত সাংস্কৃতিক।
আসলে ‘বাবা’ শব্দটি দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের স্লাভিক ভাষাগুলোতে একটি সাধারণ সম্মানসূচক সম্বোধন। এর আক্ষরিক অর্থ হলো ‘দিদিমা’, ‘বয়স্কা নারী’ বা ‘শ্রদ্ধেয় বৃদ্ধা’। অর্থাৎ, ভাঙ্গার নামের আগে ‘বাবা’ যুক্ত হওয়ার মানে দাঁড়ায়— ‘দিদিমা ভাঙ্গা’ বা ‘মা-সমান বয়স্কা ভাঙ্গা’। তাঁর প্রকৃত নাম ছিল ভ্যাঙ্গেলিয়া পানদেভা গুশতেরোভা। কিন্তু তাঁর অলৌকিক ক্ষমতা এবং বয়সের কারণে মানুষ তাঁকে ভালোবেসে ও শ্রদ্ধা জানিয়ে ‘বাবা ভাঙ্গা’ বলে ডাকতে শুরু করেন।
১৯১১ সালে জন্মানো এই নারী ছোটবেলায় এক বিধ্বংসী ঝড়ে পড়ে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছিলেন বলে প্রচলিত আছে। এরপর থেকেই তিনি ভবিষ্যৎ দেখার দাবি করেন। যদিও তাঁর ভবিষ্যদ্বাণীগুলোর কোনো লিখিত প্রমাণ নেই, তবুও আজও ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর নাম সমান চর্চিত। মজার বিষয় হলো, স্লাভিক লোককথায় অনেক সময় রূপকথার বৃদ্ধা চরিত্রদের নামের আগেও এই ‘বাবা’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়। সুতরাং, বাবা ভাঙ্গা মানে কোনো রহস্যময় জাদুকরী উপাধি নয়, বরং এক বৃদ্ধা নারীর প্রতি এক জনপদের দেওয়া সম্মানের প্রতীক।