এক রাতেই ধ্বংসলীলা ডুয়ার্সে! উড়ল ঘরের চাল, শিলাবৃষ্টিতে শেষ বিঘার পর বিঘা ফসল

রাতভর প্রকৃতির রুদ্ররোষে কার্যত লণ্ডভণ্ড ডুয়ার্স। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকেই উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় শুরু হয় তীব্র কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টি। জলপাইগুড়ি থেকে দক্ষিণ দিনাজপুর— ঝড়ের দাপটে কোথাও উড়ে গিয়েছে বসতবাড়ির চাল, কোথাও আবার স্টেশনের শেড ভেঙে বিপত্তি। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবথেকে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন প্রান্তিক চাষিরা।

তছনছ ডুয়ার্সের জনজীবন

আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাসকে সত্যি করে জলপাইগুড়ির ধূপগুড়ি ও বানারহাট ব্লকে নেমে আসে বিপর্যয়।

  • বসতবাড়ি ধ্বংস: বানারহাটের কেরানিপাড়ায় অন্তত ১০টি বাড়ি সম্পূর্ণ ধুলিসাৎ হয়ে গিয়েছে। গাছ পড়ে চূর্ণ হয়েছে আসবাবপত্র।

  • বিপর্যস্ত চালসা: মহাবাড়ি এলাকায় রাস্তার ওপর গাছ উপড়ে পড়ায় রাতভর যান চলাচল স্তব্ধ হয়ে যায়। প্রায় ২০-২৫টি বাড়ি আংশিক বা পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত।

  • অন্ধকারে বিস্তীর্ণ এলাকা: বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে যাওয়ায় এবং তার ছিঁড়ে যাওয়ায় শুক্রবার সকালেও ডুয়ার্সের বহু এলাকা বিদ্যুৎহীন।

কৃষকদের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল

শিলাবৃষ্টির দাপটে সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রবি শস্য।

  • বিঘার পর বিঘা জমি জলের তলায়: আলু, শিম এবং মটরশুঁটির খেত এখন পুকুরের রূপ নিয়েছে।

  • মরার ওপর খাঁড়ার ঘা: এমনিতেই আলুর বাজারদর নিয়ে কৃষকদের রক্তচাপ চড়া ছিল, তার ওপর এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে দিশেহারা চাষিরা। অনেক পোল্ট্রি ফার্মের শেড উড়ে যাওয়ায় প্রাণ গিয়েছে বহু মুরগিরও।

বালুরঘাট স্টেশনে আতঙ্ক

ঝড়ের প্রভাব পড়েছে দক্ষিণ দিনাজপুরেও। বালুরঘাট রেল স্টেশনের শেডের একাংশ ঝড়ের দাপটে ভেঙে পড়ে। তবে ব্যস্ত সময়ে এই দুর্ঘটনা না ঘটায় বড়সড় প্রাণহানি এড়ানো গিয়েছে।

আশঙ্কা কাটেনি এখনও

শুক্রবার সকাল পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের আকাশে কালো মেঘের ঘনঘটা। প্রশাসন এখনও ত্রাণ পৌঁছাতে না পারায় অনেক পরিবারই খোলা আকাশের নীচে দিন কাটাচ্ছেন। আবহাওয়া দপ্তরের মতে, ঘূর্ণাবর্তের জেরে আগামী ২৪ ঘণ্টায় আরও এক দফায় ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, যা দুশ্চিন্তা আরও বাড়াচ্ছে।