হাহাকার রান্নাঘরে! ৩ হাজারেও মিলছে না গ্যাস, ঐতিহ্যের নকুড় থেকে ডেকার্স লেন— ধুঁকছে বাংলার মিষ্টি ও খাবার জগত

এক একটা দিন যাচ্ছে আর রাজ্যে এলপিজি (LPG) সঙ্কট যেন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। সাধারণ মানুষের হেঁশেল থেকে শুরু করে শহরের নামী রেস্তোরাঁ ও মিষ্টির দোকান— সর্বত্রই হাহাকার। রান্নার গ্যাসের পর্যাপ্ত জোগান না থাকায় এবার বড়সড় ধাক্কা খেল কলকাতার ঐতিহ্যবাহী মিষ্টান্ন শিল্প। খোদ নকুড় মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের মতো প্রথিতযশা প্রতিষ্ঠানেও থাবা বসিয়েছে এই গ্যাস সঙ্কট। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ব্যবসার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এবং কর্মীদের রুটিরুজি বাঁচাতে মিষ্টির তালিকায় ব্যাপক কাটছাঁট করতে বাধ্য হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

পার্থ নন্দীর মতো প্রবীণ মিষ্টান্ন ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, ব্যবসার সঙ্গে বহু মানুষের জীবন জড়িয়ে রয়েছে, তাই দোকান বন্ধ করা সম্ভব নয়। গ্যাস বাঁচাতে আপাতত মালাইয়ের আইটেম তৈরি সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে। কড়াপাকের মিষ্টি তৈরিতে প্রচুর জ্বালানি লাগে, তাই সেই উৎপাদনও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরিবর্তে নজর দেওয়া হচ্ছে সন্দেশ জাতীয় মিষ্টির ওপর, যাতে গ্যাসের খরচ কিছুটা কম হয়। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, ডিস্ট্রিবিউটাররা পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝলেও জোগান স্বাভাবিক না হলে কতদিন এভাবে টেনে নেওয়া সম্ভব হবে, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে।

অন্যদিকে, কলকাতার খাদ্যরসিকদের স্বর্গরাজ্য ডেকার্স লেনের চিত্রটা আরও ভয়াবহ। যেখানে প্রতিদিন হাজার হাজার অফিসযাত্রীর ভিড় জমে, সেখানে অনেক দোকানেই এখন উনুন জ্বলছে না। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ৩ হাজার টাকা দিয়েও মিলছে না এলপিজি সিলিন্ডার। অনেক জায়গায় ময়দা মাখা অবস্থায় পড়ে রয়েছে কিন্তু মাঝপথেই গ্যাস শেষ হয়ে যাওয়ায় রান্না বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বাধ্য হয়ে অনেক দোকানদার এখন বিকল্প হিসেবে কয়লা মজুত করতে শুরু করেছেন। বহু কর্মী কাজ হারিয়ে ছুটিতে চলে যাচ্ছেন। এই নজিরবিহীন জ্বালানি সঙ্কট দ্রুত না কাটলে বাংলার খাদ্য ও মিষ্টান্ন শিল্প এক চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।