একুশের পুনরাবৃত্তি রুখতে কমিশনের মাস্টারস্ট্রোক! প্রতিটি বিধানসভায় কি এবার আলাদা ‘নজর’?

আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে এখন থেকেই তৎপরতা তুঙ্গে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের। বাংলার ভোটের ইতিহাস এবং বিগত নির্বাচনের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার কোমর বেঁধে নামছে কমিশন। সূত্রের খবর, ২০২৬-এর হাইভোল্টেজ নির্বাচনে ভোট প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ করতে পর্যবেক্ষকের সংখ্যা এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।
সাধারণত নির্বাচন কমিশন ভোটের সময় তিন স্তরের নজরদারি চালায়— সাধারণ পর্যবেক্ষক (General Observer), পুলিশ পর্যবেক্ষক (Police Observer) এবং ব্যয় সংক্রান্ত পর্যবেক্ষক (Expenditure Observer)। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি আসনের জন্য মাত্র ১৬০ জন সাধারণ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছিল। ফলে একজন পর্যবেক্ষককে একাধিক বিধানসভা কেন্দ্রের দায়িত্ব সামলাতে হয়েছিল, যা অনেক ক্ষেত্রে নজরদারির কাজে সীমাবদ্ধতা তৈরি করেছিল। এবার সেই পদ্ধতিতে আমূল বদল এনে প্রায় প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য পৃথক সাধারণ পর্যবেক্ষক নিয়োগের কথা ভাবছে কমিশন।
আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ পর্যবেক্ষকের সংখ্যাও বাড়ানো হচ্ছে। গতবার রাজ্যে মাত্র ৩৭ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক ছিলেন, যা এবার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। এছাড়া প্রার্থীদের নির্বাচনী খরচের ওপর কড়া নজর রাখতে আয়-ব্যয় পর্যবেক্ষকের সংখ্যাও বৃদ্ধি পাবে। মূলত স্পর্শকাতর বুথ এবং হিংসাপ্রবণ এলাকাগুলোতে বাড়তি নজরদারি সুনিশ্চিত করাই কমিশনের প্রধান লক্ষ্য। বুথ সংখ্যা কম এমন জায়গায় হয়তো একজন পর্যবেক্ষক একাধিক কেন্দ্রের দায়িত্ব পেতে পারেন, তবে সিংহভাগ ক্ষেত্রেই ‘এক কেন্দ্র, এক পর্যবেক্ষক’ নীতি প্রয়োগের সম্ভাবনা প্রবল। পশ্চিমবঙ্গবাসীকে ভয়মুক্ত পরিবেশে ভোট দেওয়ার সুযোগ করে দিতেই কমিশনের এই মেগা প্রস্তুতি।