ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মোদির হাই-ভোল্টেজ বৈঠক! গ্যাস নিয়ে গুজব ও কালোবাজারি রুখতে দিলেন ‘কোভিড-দাওয়াই’

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই সংকটকালে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করতে এবং গুজব রুখতে কঠোর অবস্থান নিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, রান্নার গ্যাস বা এলপিজি নিয়ে যারা আতঙ্ক ছড়াচ্ছে বা কালোবাজারি করছে, তাদের রেহাই দেওয়া হবে না।
ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মোদির কথোপকথন
পরিস্থিতি সামাল দিতে সরাসরি কূটনৈতিক পথে হাঁটা শুরু করেছে ভারত। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে প্রধানমন্ত্রী সমাজমাধ্যমে জানান যে, তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে আলোচনা হলো। মোদি ইরানের সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ও পরিকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি সে দেশে থাকা ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানান।
জ্বালানি মজুত ও জোগান: আসল ছবিটা কী?
হরমুজ প্রণালী আংশিকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এলপিজি আমদানিতে চাপ তৈরি হয়েছে। তবে সরকারি সূত্রে দাবি করা হয়েছে:
দেশে খনিজ তেলের কোনো ঘাটতি নেই।
অভ্যন্তরীণ এলপিজি উৎপাদন গত কয়েক দিনে প্রায় ২৮ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
ভারতের লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ সচল রাখা এবং কূটনীতির মাধ্যমে শান্তি ফেরানো।
গ্যাস বুকিংয়ের নতুন কড়াকড়ি
সংসদে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী জানিয়েছেন, জোগান সুশৃঙ্খল রাখতে বুকিংয়ের ব্যবধানে বদল আনা হয়েছে:
শহরাঞ্চল: দুটি সিলিন্ডার বুকিংয়ের মাঝে ২৫ দিনের ব্যবধান।
গ্রাম ও দুর্গম এলাকা: এই ব্যবধান বাড়িয়ে ৪৫ দিন করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর বার্তা: “কোভিডের মতোই জয়ী হব”
প্রধানমন্ত্রী মোদি বর্তমান পরিস্থিতিকে কোভিডের কঠিন সময়ের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি বলেন, “কোভিড যেভাবে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করেছি, এই সংকটও সেভাবেই কাটিয়ে উঠব।” তিনি সংবাদমাধ্যম, যুবসমাজ ও রাজনৈতিক দলগুলিকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।