LPG-সঙ্কট রুখতে নবান্ন ঠিক কী কী নির্দেশ দিল? মমতার নির্দেশে ময়দানে মুখ্যসচিব

রাজ্যজুড়ে চলা তীব্র এলপিজি (LPG) সংকটের মোকাবিলায় এবার যুদ্ধকালীন তৎপরতায় নামল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে এবং রান্নার গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে একগুচ্ছ কড়া নির্দেশিকা বা SOP (Standard Operating Procedure) জারি করল নবান্ন। খোদ মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে তৈরি হয়েছে বিশেষ ‘মনিটরিং কমিটি’।

নবান্নের নতুন SOP-তে যা যা থাকছে:

গ্যাসের কালোবাজারি রুখতে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা স্বচ্ছ করতে নবান্ন বেশ কিছু বৈপ্লবিক পদক্ষেপ নিয়েছে:

  • ২৪x৭ কন্ট্রোল রুম: সাধারণ মানুষের অভিযোগ শুনতে এবং জোগান তদারকি করতে নবান্নে চব্বিশ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম খোলা হচ্ছে।

  • ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড: রাজ্যে কোথায় কত সিলিন্ডার মজুত আছে এবং কোথায় ঘাটতি রয়েছে, তা রিয়েল-টাইমে নজরদারি করতে তৈরি হচ্ছে ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড।

  • কালোবাজারিতে কোপ: সিলিন্ডার মজুত করা বা চড়া দামে বিক্রি রুখতে জেলা প্রশাসনকে কড়া তল্লাশির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে হাই-প্রোফাইল কমিটি

রাজ্য স্তরে একটি ‘LPG ক্রাইসিস মনিটরিং কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। মুখ্যসচিবের সভাপতিত্বে এই কমিটিতে থাকছেন খাদ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবহণ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দফতরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। তেল সংস্থাগুলির প্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে এই কমিটি নিয়মিত পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবে।

অগ্রাধিকার পাবে স্কুল-হাসপাতাল

নতুন নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, গৃহস্থালি গ্রাহকদের পাশাপাশি হাসপাতাল, স্কুল (মিড-ডে মিল) এবং অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলোতে যাতে সিলিন্ডার সরবরাহে কোনও বিঘ্ন না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে হবে জেলা প্রশাসনকে।

সতর্কবার্তা: অনলাইনে বুকিংয়ে সাবধান!

গ্যাস সংকটের সুযোগ নিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে সাইবার প্রতারকরাও। কম দামে গ্যাস পাইয়ে দেওয়ার টোপ দিয়ে সাধারণ মানুষের অ্যাকাউন্ট খালি করে দিচ্ছে স্ক্যামাররা। পুলিশ ও প্রশাসনের তরফে বারবার সতর্ক করা হচ্ছে যাতে অনুমোদিত অ্যাপ বা ডিস্ট্রিবিউটর ছাড়া অন্য কোথাও লেনদেন না করা হয়।