গ্যাস নিয়ে আতঙ্ক ছড়ালে কড়া দাওয়াই! এলপিজি জোগান ও কালোবাজারি রুখতে রাজ্যগুলিকে চরম বার্তা মোদির

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের আবহে দেশজুড়ে তৈরি হওয়া এলপিজি (LPG) আতঙ্ক কাটাতে সরাসরি ময়দানে নামলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার দিল্লির ‘NXT’ সামিটে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি স্পষ্ট জানান, কিছু অসাধু চক্র দেশে কৃত্রিম আতঙ্ক তৈরি করার চেষ্টা করছে। যারা এই কাজের সঙ্গে যুক্ত এবং যারা পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কালোবাজারি করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

আতঙ্ক ও কালোবাজারি নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পশ্চিম এশিয়ার সঙ্কটের প্রভাব সব দেশের ওপর পড়েছে, ভারতও তার বাইরে নয়। কিন্তু সরকার জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দিনরাত এক করে দিচ্ছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “যারা এলপিজি নিয়ে গুজব ছড়াচ্ছে, তারা আসলে দেশের ক্ষতি করছে। আমি রাজ্যগুলিকে অনুরোধ করছি, আপনারা কড়া নজরদারি চালান। যারা মজুতদারি বা কালোবাজারি করবে, তাদের রেহাই দেওয়া হবে না।”

পরিসংখ্যান দিয়ে আশ্বস্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী
বিরোধীদের সমালোচনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী ২০১৪ সালের আগের ও বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা টেনে একগুচ্ছ তথ্য পেশ করেন:

অপরিশোধিত তেল মজুত: ২০১৪ সালের আগে যা নগণ্য ছিল, বর্তমানে দেশে ৫০ লক্ষ টনেরও বেশি অপরিশোধিত তেল মজুত রয়েছে।

এলপিজি সংযোগ: ২০১৪ সালে দেশে সংযোগ ছিল মাত্র ১৪ কোটি, বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩ কোটিতে।

এলএনজি টার্মিনাল: দেশে এলএনজি টার্মিনালের সংখ্যাও আগের তুলনায় দ্বিগুণ হয়েছে।

গ্যাস বুকিংয়ের নতুন নিয়ম (শহর বনাম গ্রাম)
সরবরাহ সচল রাখতে এবং অপব্যবহার রুখতে বুকিংয়ের নিয়মে সাময়িক বদল আনা হয়েছে:

শহরাঞ্চল: দুটি গ্যাস সিলিন্ডার বুকিংয়ের মধ্যে ব্যবধান থাকছে আগের মতোই ২৫ দিন।

গ্রামাঞ্চল: গ্রামীণ গ্রাহকদের ক্ষেত্রে এই সময়সীমা বাড়িয়ে করা হয়েছে ৪৫ দিন। অর্থাৎ একটি সিলিন্ডার নেওয়ার ৪৫ দিন পর পরবর্তী সিলিন্ডার বুক করা যাবে।

প্রধানমন্ত্রী দেশের যুবসমাজ, সংবাদমাধ্যম এবং সব রাজনৈতিক দলকে এই বৈশ্বিক সঙ্কট মোকাবিলায় গঠনমূলক ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানিয়েছেন।