রান্নার গ্যাসের আকাল ও আকাশছোঁয়া দাম! কালোবাজারি রুখতে আসরে মোদি সরকার, জেনে নিন নতুন নিয়ম

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির আঁচ এবার সরাসরি ভারতের হেঁসেলে। ইরান, আমেরিকা ও ইজরায়েলের সংঘাতের জেরে ব্যাহত হচ্ছে জ্বালানি আমদানি। বিশেষ করে ইরানের ‘হরমুজ প্রণালী’ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘোষণায় ভারতের এলপিজি (LPG) আমদানিতে বড়সড় টান পড়েছে। এই সঙ্কটজনক পরিস্থিতিতে রান্নার গ্যাসের কালোবাজারি রুখতে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সিলিন্ডার বুকিংয়ের নিয়মে বড় বদল আনল কেন্দ্রীয় সরকার।

বুকিংয়ের নতুন নিয়ম: শহর ও গ্রামে তফাত
পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী সিলিন্ডার বুকিংয়ের ক্ষেত্রে নতুন সময়সীমা নির্ধারণ করেছেন। এখন থেকে শহর ও গ্রামাঞ্চলের গ্রাহকদের জন্য নিয়ম আলাদা হবে:

শহরাঞ্চল: দুটি সিলিন্ডার বুকিংয়ের মধ্যে এখন থেকে কমপক্ষে ২৫ দিনের ব্যবধান থাকতে হবে (আগে যা ছিল ২১ দিন)।

** গ্রামাঞ্চল:** দুর্গম ও গ্রামীণ এলাকায় এই সময়সীমা বাড়িয়ে ৪৫ দিন করা হয়েছে।

কেন এই কঠোর পদক্ষেপ?
কেন্দ্রের দাবি, যুদ্ধের আবহে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী রান্নার গ্যাসের কৃত্রিম অভাব তৈরি করে কালোবাজারি করার চেষ্টা করছে। এই মজুতদারি রুখতেই বুকিংয়ের মাঝে দিনের ব্যবধান বাড়ানো হয়েছে। ভারত তার মোট এলপিজি চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ আমদানির ওপর নির্ভরশীল, যার বড় অংশই আসে হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে। এই পথটি বর্তমানে অবরুদ্ধ থাকায় সরবরাহে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটেছে।

উৎপাদন বৃদ্ধি ও সরকারি আশ্বাস
সঙ্কটের কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্বীকার করে নিলেও, সরকার বারবার আশ্বস্ত করছে যে দেশে পর্যাপ্ত গ্যাসের মজুত রয়েছে। ৮ মার্চের নির্দেশিকার পর দেশে এলপিজির অভ্যন্তরীণ উৎপাদন প্রায় ২৮ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। লোকসভায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানিয়েছেন, আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই, সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সবরকম ব্যবস্থা নিচ্ছে।

দাম বৃদ্ধি ও সাধারণ মানুষের ক্ষোভ
যুদ্ধের প্রভাবে কলকাতায় রান্নার গ্যাসের দাম এক ধাক্কায় ৬০ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৩৯ টাকায়। চড়া দামের পাশাপাশি অনেক জায়গায় সঠিক সময়ে সিলিন্ডার না পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। তবে সরকারের আশা, নতুন বুকিং নিয়ম কার্যকর হলে সরবারহের বিশৃঙ্খলা অনেকটাই কমবে।