গ্যাস-পেট্রোল নিয়ে বড় আপডেট! মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের রক্তচক্ষুর মাঝে জ্বালানি সঙ্কট নিয়ে কী জানাল কেন্দ্র?

পশ্চিম এশিয়ায় ঘনিয়ে আসা যুদ্ধের কালো মেঘের মাঝে ভারতে জ্বালানি তেলের জোগান নিয়ে তৈরি হওয়া উদ্বেগের অবসান ঘটাল কেন্দ্র। ইরান ও ইজরায়েলের সংঘাতের জেরে বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহের অন্যতম প্রধান পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হওয়ায় ভারতে পেট্রোল, ডিজেল ও রান্নার গ্যাসের আকাল দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছিল। তবে সংসদ অধিবেশনে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, দেশে জ্বালানি সরবরাহের পরিস্থিতি বর্তমানে সম্পূর্ণ স্থিতিশীল এবং স্বস্তিদায়ক।
পর্যাপ্ত মজুত ও দুশ্চিন্তার অবসান
সংসদে এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী জানান যে, দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর জন্য ভারত সরকারের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণে জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে। আন্তর্জাতিক স্তরে অস্থিরতা থাকলেও ভারতের সাধারণ মানুষকে খুব শীঘ্রই কোনও সঙ্কটের মুখে পড়তে হবে না। হরদীপ সিং পুরী জোর দিয়ে বলেন, “দেশে কোনও রকম জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে সঙ্কট নেই। সরকার পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে এবং যে কোনও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমরা প্রস্তুত।”
হরমুজ প্রণালী ও ভারতের দুশ্চিন্তা
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে ইরান যদি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়, তবে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকে। ভারত তার জ্বালানি চাহিদার সিংহভাগ আমদানির মাধ্যমে পূরণ করে, তাই এই পথ বন্ধ হওয়া ভারতের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এই আশ্বস্তবাণী লজিস্টিক এবং অর্থনৈতিক মহলে স্বস্তি নিয়ে এল।
বিকল্প ব্যবস্থার পথে সরকার
মন্ত্রী আরও ইঙ্গিত দেন যে, সরকার কেবল বর্তমান মজুতের ওপর ভরসা করে নেই, বরং বৈশ্বিক অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে বিকল্প উৎস থেকে তেল আমদানির বিষয়েও কূটনৈতিক স্তরে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে এলপিজি বা পেট্রোল নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।