রান্নার গ্যাসের আকাল নিয়ে বড় ঘোষণা মোদির! দেশজুড়ে এলপিজি সঙ্কটের মাঝে কড়া হুঁশিয়ারি প্রধানমন্ত্রীর

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে ভারতেও। দেশজুড়ে রান্নার গ্যাস বা এলপিজি-র চরম সঙ্কট নিয়ে যখন সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তুঙ্গে, ঠিক তখনই এই বিষয়ে মুখ খুললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার দিল্লির ‘NXT’ সামিটে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, কিছু অসাধু মানুষ এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে দেশে কৃত্রিম আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করছে।

গুজব রটনাকারীদের কড়া হুঁশিয়ারি
প্রধানমন্ত্রী এদিন অত্যন্ত কঠোর ভাষায় জানান, যারা এলপিজি পরিস্থিতি নিয়ে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে, তারা আসলে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধি করতে গিয়ে দেশের ক্ষতি করছে। মোদি বলেন, “যারা এই কাজ করছে তারা যে শুধু জনগণের সামনে নিজেদের মুখোশ খুলে দিচ্ছে এমনটা নয়, তারা দেশেরও ক্ষতি করছে।” তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, এটি রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ির সময় নয়, বরং জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সময়।

কালোবাজারি রুখতে রাজ্যগুলিকে নির্দেশ
গ্যাসের এই সঙ্কটকালীন পরিস্থিতিতে এক শ্রেণির ব্যবসায়ী মজুতদারি ও কালোবাজারিতে লিপ্ত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী এই বিষয়ে রাজ্য সরকারগুলিকে সতর্ক থাকার এবং কঠোর নজরদারি চালানোর আর্জি জানিয়েছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে যারা কালোবাজারি করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে। কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না।”

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার তৎপর
পশ্চিম এশিয়ায় ইজরায়েল, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে যে ব্যাঘাত ঘটেছে, তা প্রধানমন্ত্রী স্বীকার করে নিয়েছেন। তবে তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, ভারত সরকার বিকল্প পথ খুঁজতে নিরন্তর কাজ করছে। তিনি বলেন, “গত কয়েক দিনে আমি একাধিক বিশ্বনেতার সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা সরবরাহ সচল রাখার জন্য সমাধানের পথ খুঁজছি। ভারত তার জ্বালানি নিরাপত্তা রক্ষা করতে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

বিশ্বের কঠিন সময়ে ভারতের ভূমিকা
প্রধানমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন যে, এর আগেও কোভিড-১৯ মহামারি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় বিশ্ব কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিল। বর্তমান মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাও বিশ্বকে একটি জ্বালানি সঙ্কটের দিকে ঠেলে দিয়েছে। মোদির কথায়, “বিশ্ব এখন এক কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তবে ভারত তার নিজের ছন্দ ধরে রেখেছে। বিশ্বনেতারা এখন ভারতের দিকে আশার আলো দেখছেন।”

দেশবাসীকে আহ্বান
প্রধানমন্ত্রী দেশের কৃষক এবং সাধারণ নাগরিকদের আশ্বস্ত করে বলেন যে, বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের বোঝা যাতে আমজনতার ওপর না পড়ে, তার জন্য সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজনৈতিক দল, সংবাদমাধ্যম এবং দেশের যুবসমাজকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানান তিনি। মোদি সবশেষে বলেন, “আমাদের লক্ষ্য একটাই—উন্নত ভারতবর্ষ। দেশ শুধু এগোচ্ছে না, দেশ এখন পরবর্তী ধাপে পা রাখতে চলেছে।”