রোবটই চালাবে অফিস! ইলন মাস্কের নতুন চমক ‘ডিজিটাল অপটিমাস’ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আইটি সেক্টর!

বিশ্বখ্যাত ধনকুবের ইলন মাস্ক মানেই নতুন কিছু। তবে এবার তিনি যা নিয়ে এলেন, তা শুনে সাধারণ চাকরিজীবীদের কপালে ভাঁজ পড়তে বাধ্য। বুধবার মাস্ক তাঁর ইলেকট্রিক গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থা ‘টেসলা’ এবং এআই স্টার্টআপ ‘xAI’-এর যৌথ মেগা প্রজেক্ট ‘ম্যাক্রোহার্ড’ (Macrohard) উন্মোচন করেছেন। মাস্ক নিজেই একে বলছেন ‘ডিজিটাল অপটিমাস’। তাঁর দাবি, এই সিস্টেমটি আস্ত একটি সফটওয়্যার কোম্পানির কার্যক্ষমতা হুবহু নকল করতে পারবে।

সহজ ভাষায় বলতে গেলে, মাইক্রোসফটের মতো টেক জায়ান্ট সংস্থাগুলি যেসব জটিল সফটওয়্যার তৈরি করে, ‘ম্যাক্রোহার্ড’ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে ঠিক তেমনই সব কাজ অনায়াসেই সম্পন্ন করবে। ইলন মাস্ক এক্স-এ (সাবেক টুইটার) জানিয়েছেন, এই প্ল্যাটফর্মে ‘মস্তিষ্ক’ হিসেবে কাজ করবে তাঁর শক্তিশালী এআই মডেল ‘গ্রোক’ (Grok)। আর এই মস্তিষ্কের নির্দেশে যাবতীয় শারীরিক ও টেকনিক্যাল কাজ করবে টেসলার হিউম্যানয়েড রোবট ‘অপটিমাস’। এর ফলে ডেটা অ্যানালিসিস থেকে শুরু করে কাস্টমার সার্ভিস বা সাপ্লাই চেন ম্যানেজমেন্ট—মানুষের দ্বারা পরিচালিত প্রায় সব কাজই এখন রোবট ও এআই-এর দখলে চলে যাবে।

এই প্রজেক্টের নাম ‘ম্যাক্রোহার্ড’ রেখে মাস্ক পরোক্ষভাবে মাইক্রোসফটকে বিঁধেছেন বলেও মনে করছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। এই সিস্টেমটি চলবে টেসলার নিজস্ব AI4 চিপ এবং এনভিডিয়া চিপের সংমিশ্রণে। তবে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের আড়ালে বড় প্রশ্নটি হলো কর্মসংস্থান। সফটওয়্যার ডেভেলপার থেকে শুরু করে সাধারণ করপোরেট কর্মী—সবার কাজই যদি একটি ডিজিটাল সিস্টেম নকল করতে পারে, তবে বিশ্বজুড়ে চাকরিবাজারে কি বড়সড় ধস নামতে চলেছে? মাস্কের এই ‘ডিজিটাল অপটিমাস’ এখন সেই তর্কেরই কেন্দ্রবিন্দু।