“প্রাণে বাঁচতে ‘Go Dark’ স্ট্র্যাটেজি”-ইরানের নজর এড়িয়ে কিভাবে ভারতে এল বিশালাকার জাহাজ?

যেন কোনো হলিউডি থ্রিলার ছবির চিত্রনাট্য! একপাশে ক্ষেপণাস্ত্রের গর্জন, অন্যপাশে ইরানি নৌসেনার কড়া পাহারা। এই সব কিছুকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নিজেকে ‘অদৃশ্য’ করে মুম্বই বন্দরে ফিরে এল বিশালাকার তেলের জাহাজ ‘Shenlong Suezmax’। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম হরমুজ প্রণালী থেকে রেকর্ড পরিমাণ অপরিশোধিত তেল নিয়ে সুরক্ষিতভাবে ভারতে পৌঁছল কোনো জাহাজ।
কীভাবে এল এই ‘অদৃশ্য’ জাহাজ? ১ মার্চ সৌদি আরবের রাস তান্দুরা বন্দর থেকে ১,৩৫,৩৩৫ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল বোঝাই করে যাত্রা শুরু করেছিল লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী এই জাহাজটি। কিন্তু ততক্ষণে রণক্ষেত্র হয়ে উঠেছে পারস্য উপসাগর। ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি করপ্স (IRGC) বন্ধ করে দিয়েছে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত জলপথ ‘হরমুজ প্রণালী’। এই পরিস্থিতিতে ক্যাপ্টেন সুক্ষান্ত সিং সান্ধু এক চরম সাহসী সিদ্ধান্ত নেন।
রুদ্ধশ্বাস ‘Go Dark’ মিশন আন্তর্জাতিক মেরিটাইম ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, ৮ মার্চ শেষবার জাহাজটির সংকেত পাওয়া গিয়েছিল। এরপরই সংকেত পাঠানো বন্ধ করে দেয় জাহাজটি। সমুদ্রের ভাষায় যাকে বলা হয় ‘Go Dark’ বা ‘ডার্ক শিপ’ মোড।
-
কী এই ডার্ক শিপ? প্রতিটি জাহাজে একটি ‘অটোমেটিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম’ (AIS) থাকে, যা জাহাজের অবস্থান ও গতিপথ জানায়। আন্তর্জাতিক আইন ভেঙে ক্যাপ্টেন সান্ধু সেই সিস্টেম বন্ধ করে দেন।
-
উদ্দেশ্য: মাঝসমুদ্রে বিশালাকৃতির জাহাজটি ভাসতে থাকলেও ইজরায়েল বা ইরানের রেডারে তার কোনো অস্তিত্ব ধরা পড়েনি। ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলার হাত থেকে বাঁচতেই এই ‘লুকোচুরি’ খেলা।
২৯ নাবিকের প্রাণরক্ষা ও তেলের জোগান ভারতীয়, পাকিস্তানি ও ফিলিপিন্সের মোট ২৯ জন কর্মী নিয়ে অবশেষে বুধবার দুপুর ১টায় মুম্বইয়ের জওহর দ্বীপ টার্মিনালে নোঙর ফেলে শেনলং। মুম্বই বন্দর কর্তৃপক্ষের ডেপুটি কনজারভেটর প্রবীণ সিং জানিয়েছেন, পণ্য খালাস শুরু হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ তেল মাহুলের তেল শোধনাগারগুলোতে পাঠানো হবে, যা দেশে জ্বালানি তেলের সংকট মেটাতে বড় ভূমিকা নেবে।
বাকি জাহাজদের কী অবস্থা? ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ শিপিং-এর তথ্য অনুযায়ী, এখনও ভারতের ২৮টি জাহাজ হরমুজ প্রণালীর আশেপাশে বিপজ্জনক এলাকায় আটকে রয়েছে। তবে ভারতের বিদেশনীতির কৌশলে একে একে সেই জাহাজগুলোকে নিরাপদ জলসীমায় সরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। শেনলং-এর এই সফল প্রত্যাবর্তন বাকি জাহাজগুলোর জন্য আশার আলো দেখাচ্ছে।