রাজ্যে গ্যাস সংকট মোকাবিলায় নবান্নের কন্ট্রোল রুম, কালোবাজারি রুখতে জারি এসওপি এই নির্দেশিকার মূল লক্ষ্য হল সরবরাহ ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা আনা, সমন্বয়ের মাধ্যমে নজরদারি চালানো এবং সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি করা । ETV BHARAT কালোবাজারি রুখতে ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে জারি এসওপি (নিজস্ব চিত্র) author img By ETV Bharat Bangla Team Published : March 12, 2026 at 8:00 PM IST 4 Min Read Choose ETV Bharat কলকাতা, 12 মার্চ: রাজ্যে মাথাচাড়া দেওয়া গ্যাস সংকট এবং তার জেরে তৈরি হওয়া বিশৃঙ্খলা রুখতে এবার সরাসরি ময়দানে নামল রাজ্য প্রশাসন । গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং বেআইনি পথে পাচার রুখতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া বার্তার পরই, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফ থেকে একটি বিস্তারিত ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর’ বা এসওপি (SOP) জারি করা হয়েছে । এই নির্দেশিকার মূল লক্ষ্য হল সরবরাহ ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা আনা, সমন্বয়ের মাধ্যমে নজরদারি চালানো এবং সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি করা । বিশেষ করে স্কুলগুলিতে মিড-ডে মিল, আইসিডিএস পরিষেবা, হাসপাতালের রোগীদের খাবার এবং অত্যাবশ্যকীয় গার্হস্থ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে যাতে কোনওরকম ব্যাঘাত না-ঘটে, তা এই নির্দেশিকায় সুনিশ্চিত করা হয়েছে । প্রশাসনিক তৎপরতা বৃদ্ধি করতে নবান্নে ইতিমধ্যেই একটি 24 ঘণ্টার ‘স্টেট এলপিজি কন্ট্রোল রুম’ চালু করা হয়েছে । রাজ্যের সর্বত্র এলপিজি-র প্রাপ্যতা, মজুত ভাণ্ডার এবং পরিবহণের উপর সর্বক্ষণ নজর রাখবে এই কন্ট্রোল রুম । জরুরি যোগাযোগের জন্য কন্ট্রোল রুমের ল্যান্ডলাইন নম্বর (1070 /033-2214-3526) এবং মোবাইল নম্বর (8697981070) চালু করা হয়েছে । পাশাপাশি, সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের ‘স্টেট কমিটি’ গঠন করা হয়েছে । এই কমিটিতে রয়েছেন স্কুল শিক্ষা, বিপর্যয় মোকাবিলা, স্বাস্থ্য, শিল্প, খাদ্য ও সরবরাহ, পরিবহণ এবং স্বরাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান সচিব ও অতিরিক্ত মুখ্যসচিবরা । এছাড়া রাজ্য পুলিশের ডিজি, এডিজি (আইনশৃঙ্খলা), কলকাতা পুলিশের কমিশনার এবং আইবি ও এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের এডিজি-রাও এই কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য । রাজ্যজুড়ে এলপিজি ও অন্যান্য জ্বালানির মজুত এবং বণ্টনের রিয়েল-টাইম তথ্য পাওয়ার জন্য একটি রাজ্য-স্তরের ডিজিটাল ড্যাশবোর্ডও তৈরি করা হবে । গ্যাসের কৃত্রিম আকাল রুখতে এসওপি-তে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে গ্যাস সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে । ইন্ডিয়ান অয়েল, এইচপিসিএল এবং বিপিসিএল-এর মতো তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলিকে (OMCs) শহর ও গ্রামাঞ্চলের গার্হস্থ্য উপভোক্তা এবং অত্যাবশ্যকীয় প্রতিষ্ঠানগুলিতে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখতে বলা হয়েছে । গার্হস্থ্য পরিবার, হাসপাতাল, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র, স্কুল-কলেজ এবং সরকারি হোস্টেলগুলিকে এই অগ্রাধিকারের তালিকায় রাখা হয়েছে । সাধারণ মানুষের বাড়িতে সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে, প্রয়োজনে সিঙ্গল-সিলিন্ডার গ্রাহকদের গ্যাস বুকিংয়ের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে । গ্যাস পরিবহণ দ্রুততর করতে এলপিজি ট্যাঙ্কারগুলিকে অত্যাবশ্যকীয় পরিবহণের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনে পুলিশি পাহারায় ‘গ্রিন করিডোর’ তৈরি করে গ্যাস সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে । মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার প্রতিফলন দেখা গিয়েছে কালোবাজারি রুখতে জারি করা নির্দেশিকাগুলিতেও । জেলাশাসকদের নেতৃত্বে প্রতিটি জেলায় ‘ডিস্ট্রিক্ট এলপিজি মনিটরিং কমিটি’ গঠন করা হবে, যারা ডিস্ট্রিবিউটরদের মজুত খতিয়ে দেখবে এবং স্থানীয় সমস্যার সমাধান করবে । গার্হস্থ্য এলপিজি সিলিন্ডারের বেআইনি মজুত, কালোবাজারি, অতিরিক্ত দাম নেওয়া এবং অন্য খাতে ঘুরিয়ে দেওয়া রুখতে কড়া পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে । এই ধরনের অপরাধমূলক কাজ প্রমাণিত হলে উপযুক্ত আইনে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করবে প্রশাসন । এই নজরদারির ফলে প্রকৃত চাহিদা এবং সাধারণ মানুষের আতঙ্কের বশে তৈরি হওয়া কৃত্রিম চাহিদার মধ্যে পার্থক্য বুঝতে সুবিধা হবে বলে প্রশাসন মনে করছে । এলপিজি-র উপর চাপ কমাতে বিকল্প জ্বালানির বন্দোবস্ত করার দিকেও জোর দিয়েছে রাজ্য । বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় গণবণ্টন ব্যবস্থা (PDS) এবং খোলা বাজারে কেরোসিনের জোগান বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে । পরিবহণ ক্ষেত্রকে যতটা সম্ভব সিএনজি-র দিকে ঝোঁকার উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে । মানুষ যাতে অযথা আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত গ্যাস বুকিং বা মজুত না করেন, তার জন্য নিয়মিত জনসচেতনতামূলক প্রচার চালানোর কথাও বলা হয়েছে এসওপি-তে । এর পাশাপাশি, সাধারণ মানুষের গ্যাস বা জ্বালানি সংক্রান্ত জরুরি অভিযোগ জানানোর জন্য রাজ্য পুলিশের তরফে তিনটি বিশেষ হেল্পলাইন নম্বর—033 49506101, 033 35026214 এবং 033 24874400 চালু করা হয়েছে । রাজ্য সরকার আশাবাদী, প্রশাসনের এই বহুমুখী ও কঠোর পদক্ষেপের ফলে দ্রুত এই গ্যাস সংকটের সমাধান হবে এবং সাধারণ মানুষ হয়রানির হাত থেকে রেহাই পাবেন ।

রাজ্যজুড়ে চলা রান্নার গ্যাসের তীব্র সংকট মোকাবিলায় এবার যুদ্ধকালীন তৎপরতায় নামল নবান্ন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া নির্দেশের পর জারি করা হয়েছে একটি বিস্তারিত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (SOP)। এই নির্দেশিকার মূল লক্ষ্য হলো সরবরাহে স্থিতিশীলতা আনা এবং কৃত্রিম আকাল রুখে কালোবাজারিদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া।

প্রশাসনিক নজরদারি জোরদার করতে নবান্নে একটি ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে (নম্বর: ১০৭০ / ০৩৩-২২১৪-৩৫২৬)। এছাড়া সাধারণ মানুষের অভিযোগ জানানোর জন্য রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে তিনটি বিশেষ হেল্পলাইন নম্বরও চালু করা হয়েছে। নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে হাসপাতাল, স্কুল (মিড-ডে মিল) এবং গার্হস্থ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে গ্যাস সরবরাহে অগ্রাধিকার দিতে হবে। প্রয়োজনে গ্যাস ট্যাঙ্কার চলাচলের জন্য তৈরি করা হবে ‘গ্রিন করিডোর’। প্রতিটি জেলায় জেলাশাসকের নেতৃত্বে মনিটরিং কমিটি গঠন করে মজুত ভাণ্ডারে নিয়মিত তল্লাশি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।