গ্যাসের অভাবে বিপাকে ‘খাদ্যগলি’! রেস্টুরেন্ট গুলোতে অর্ধেক মেনু উধাও?

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে যখন একের পর এক মিসাইল আছড়ে পড়ছে, তার উত্তাপ এবার এসে লাগল কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ‘খাদ্যগলি’ ডেকার্স লেনে। ৪ হাজার কিলোমিটার দূরের যুদ্ধের প্রভাবে রাজ্যজুড়ে তৈরি হওয়া এলপিজি (LPG) সংকটে এখন অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই লড়ছে মধ্য কলকাতার এই বিখ্যাত অফিসপাড়া।
অরুণদার ‘জয় মা কালী’: খিচুড়ি আর বেগুন সুন্দরী কি অতীত? সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তোলা অরুণদার খিচুড়ি আর ‘বেগুন সুন্দরী’র স্বাদ পেতে এখন ভিড় জমান ভোজনরসিকরা। কিন্তু গ্যাস সংকটের জেরে অরুণ পাল হতাশ গলায় জানালেন, আগামী সপ্তাহ থেকেই হয়তো অমিল হতে পারে এই জনপ্রিয় পদ। তাঁর কথায়, “ডিস্ট্রিবিউটররা বলছেন সিলিন্ডার দেওয়া সম্ভব নয়। বেশি দামে কিনে খাবার বিক্রি করাও সম্ভব নয়। বাধ্য হয়েই মেনু কমাতে হচ্ছে, না হলে ঝাঁপ বন্ধ করতে হবে।”
উনুনে ফিরছে ‘জনতা হোটেল’ ও ‘চিত্তবাবুর দোকান’ ডেকার্স লেনের প্রতিটি দোকানের ছবিই এখন এক।
-
জনতা হোটেল: প্রতিদিন ২০০-২৫০ মানুষের পেট ভরানো এই হোটেলে এখন এলপিজি-র অভাবে উনুনে রান্না হচ্ছে। কর্ণধার শঙ্কর মল্লিক জানান, উনুনে রান্নার গতি কম হওয়ায় মেনু অর্ধেক করতে হয়েছে। মাছ-ভাত ছাড়া আর কিছুই দেওয়া যাচ্ছে না, ফলে ব্যবসাও কমেছে ৫০ শতাংশ।
-
চিত্তবাবুর দোকান: ঐতিহ্যবাহী ফিশ ফ্রাই, ফিশ রোল বা চিকেন কষা ইতিমধ্যেই বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ধিকিধিকি জ্বলা উনুনে কেবল চিকেন স্টু আর পাউরুটিটুকু টিমটিম করে টিকে আছে। মালিক সন্দীপ রায়ের আশঙ্কা, দ্রুত জোগান স্বাভাবিক না হলে সবটাই বন্ধ হয়ে যাবে।
কেন্দ্রের আশ্বাস বনাম বাস্তব চিত্র: কালোবাজারি কি নেপথ্যে? কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী লোকসভায় দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন যে জ্বালানি বা গ্যাসের কোনো ঘাটতি নেই এবং গুজবে কান দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু ডেকার্স লেনের বাস্তব পরিস্থিতি মন্ত্রীর আশ্বাসের উল্টো সুর গাইছে। যদি জোগান পর্যাপ্তই থাকে, তবে কেন ডিস্ট্রিবিউটররা সিলিন্ডার দিচ্ছে না? এর নেপথ্যে কি তবে কোনো বড় কালোবাজারি কাজ করছে? প্রশ্ন তুলছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা।
কলকাতার এই ‘খাদ্যগলি’র কয়েকশ পরিবারের রুটিরুজি এখন অনিশ্চয়তার মুখে। শহরবাসীর প্রিয় খাবারের স্বাদ কি তবে যুদ্ধের গোলার শব্দে হারিয়ে যাবে? উত্তর খুঁজছে তিলোত্তমা।