গ্যাসের দাম ৬০ টাকা বাড়তেই রাজপথে হাত শিবির, পেট্রোলিয়াম মন্ত্রীর কুশপুতুল দাহ করে তুলকালাম

রান্নার গ্যাসের আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি এবং জোগান নিয়ে তৈরি হওয়া তীব্র সংকটের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার কলকাতায় কার্যত আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে পড়ল প্রদেশ কংগ্রেস। কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে ‘ভুল’ বিদেশনীতি এবং জনবিরোধী সিদ্ধান্তের অভিযোগ তুলে শহরজুড়ে একাধিক জায়গায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন কংগ্রেস কর্মীরা। নবান্ন ও দিল্লি—উভয় সরকারকেই চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার সাফ জানিয়েছেন, “রান্নাঘরে আগুন নিভলে এবার রাস্তায় আগুন জ্বলবে! আগামী সোমবার পর্যন্ত সময় দিচ্ছি, পরিস্থিতি না শুধরোলে ১৬ মার্চ থেকে রাজ্যজুড়ে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে কংগ্রেস।”

এদিন দক্ষিণ কলকাতা জেলা কংগ্রেসের পক্ষ থেকে হাজরা মোড়ে একটি বিশাল প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়। সেখানে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীর কুশপুতুল দাহ করে বিক্ষোভ দেখান কর্মীরা। দক্ষিণ কলকাতা জেলা কংগ্রেসের সভাপতি প্রদীপ প্রসাদ অভিযোগ করেন, একদিকে মন্ত্রী বলছেন পর্যাপ্ত গ্যাস আছে, অন্যদিকে বাজারে হাহাকার। মোদী সরকার আসলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে, যার মাশুল দিচ্ছে সাধারণ ভারতীয় নাগরিক। উত্তর কলকাতার হাতিবাগান মোড়েও সমান্তরালভাবে বিক্ষোভ দেখায় উত্তর কলকাতা জেলা কংগ্রেস। বিধান ভবন থেকে মৌলালী মোড় পর্যন্ত মিছিল করে কংগ্রেসের মানবাধিকার শাখাও।

শুভঙ্কর সরকার পরিসংখ্যান তুলে ধরে দাবি করেন, সারা দেশে মাত্র ৬-৭ শতাংশ গার্হস্থ্য গ্যাস বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। সেই জোগান বন্ধ করে দিয়ে সরকার হোটেল, ট্যুরিজম এবং খাদ্য ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত অসংখ্য অসংগঠিত শ্রমিকের পেটে লাথি মারছে। সামনেই ঈদ এবং রমজান মাস চলায় এই সংকট আরও ভয়ংকর আকার ধারণ করেছে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে তিনি বলেন, “ইরান ভারতের পুরোনো বন্ধু হওয়া সত্ত্বেও মোদী সরকারের অপরিণত বিদেশনীতির কারণে সেই সম্পর্কে ফাটল ধরেছে। সুসম্পর্ক থাকলে আজ হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল ও গ্যাস আনতে কোনও বাধা পেতে হত না।” সোমবারের মধ্যে সুরাহা না হলে কংগ্রেস এই আন্দোলনকে ব্লক স্তরে ছড়িয়ে দেওয়ার ডাক দিয়েছে।