উল্টে যাবে দাবার চাল? লোকসভা ভোটের মুখে নির্বাচন কমিশনে বড় ধাক্কা, বিপাকে বিজেপি!

ভারতীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে নজিরবিহীন সংঘাত! এই প্রথম কোনো প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে পদ থেকে অপসারিত করতে কোমর বেঁধে নামল বিরোধী শিবির। বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারকে সরানোর দাবিতে ইতিমধ্যেই সংসদের দুই কক্ষ মিলিয়ে ২০০-র বেশি সাংসদ একযোগে নোটিশে সই করেছেন। সূত্র মারফত খবর, আজ শুক্রবারই সংসদে এই বিস্ফোরক নোটিশ জমা পড়তে পারে।
অঙ্ক কষে এগোচ্ছে বিরোধীরা: কার পাল্লা ভারী? সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী, প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে সরাতে গেলে লোকসভায় অন্তত ১০০ জন এবং রাজ্যসভায় ৫০ জন সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন। বিরোধীরা দাবি করছে, তাদের ঝুলিতে প্রয়োজনের চেয়েও বেশি সমর্থন রয়েছে।
-
লোকসভা: সই করেছেন ১৩০ জন সাংসদ।
-
রাজ্যসভা: সই করেছেন ৬৩ জন সাংসদ। মজার বিষয় হলো, ইন্ডিয়া (INDIA) জোটের বাইরে থাকা আম আদমি পার্টির সাংসদেরাও এই প্রস্তাবে উৎসাহের সঙ্গে সই করেছেন।
অভিযোগের পাহাড়: কেন এই চরম পদক্ষেপ? সূত্রের দাবি, জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে মোট ৭টি গুরুতর অভিযোগ এনেছে বিরোধীরা। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
-
পদের অপব্যবহার ও পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ।
-
শাসক দল বিজেপি-কে নির্বাচনী সুবিধা পাইয়ে দেওয়া।
-
ভোটার তালিকায় কারচুপি বা বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা।
-
নাগরিকদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা।
বিচারপতির মতো অপসারণ প্রক্রিয়া: কতটা কঠিন এই পথ? সংবিধান অনুযায়ী, ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে সরানো মোটেও সহজ নয়। এই প্রক্রিয়াটি ঠিক সুপ্রিম কোর্ট বা হাইকোর্টের বিচারপতির ইমপিচমেন্ট বা অপসারণের মতোই জটিল।
-
প্রস্তাব পেশ: সংসদের যেকোনো কক্ষে প্রয়োজনীয় সংখ্যার স্বাক্ষরসহ প্রস্তাব আনতে হয়।
-
বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা: প্রস্তাবটি পাস করতে হলে সংসদের মোট সদস্যের অর্ধেকের বেশি এবং উপস্থিত সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশ (Two-thirds) সমর্থন প্রয়োজন।
বাংলার যোগ ও তৃণমূলের ক্ষোভ পশ্চিমবঙ্গ থেকেও এই ইস্যুতে সুর চড়িয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যের শাসক দলের অভিযোগ, ভোটার তালিকায় নাম সংশোধনের নামে বহু প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ দিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা আদতে কেন্দ্রীয় শাসক দলকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ারই নামান্তর।
নির্বাচনের ঠিক আগে কমিশনের শীর্ষ পদ নিয়ে এই আইনি লড়াই দেশের রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার।