বিচারব্যবস্থাকে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ তকমা! NCERT বইয়ের লেখকদের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করার নজিরবিহীন নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

অষ্টম শ্রেণির সমাজবিজ্ঞান পাঠ্যবইয়ে ভারতীয় বিচারব্যবস্থা সম্পর্কে “দুর্নীতি” সংক্রান্ত আপত্তিকর মন্তব্যের জেরে নজিরবিহীন কড়া পদক্ষেপ নিল সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার (১১ মার্চ) প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত-এর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ কেন্দ্র ও সব রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে, ওই বিতর্কিত অধ্যায় রচনায় যুক্ত বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে অবিলম্বে সমস্ত সরকারি সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে। অধ্যাপক মিশেল ড্যানিনো, সুপর্ণা দিবাকর এবং আলোক প্রসন্ন কুমার— এই তিন বিশেষজ্ঞকে আর কোনও সরকারি অর্থে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানের কাজে যুক্ত করা যাবে না।

আদালত পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের বিচারব্যবস্থা সম্পর্কে জ্ঞানের অভাব আছে বা তাঁরা ইচ্ছাকৃতভাবে নেতিবাচক ছবি তুলে ধরেছেন এমনটা না বলা গেলেও, পাঠ্যবইয়ে বিচারব্যবস্থার মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হওয়া কাম্য নয়। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, দেশের কোনও বিশ্ববিদ্যালয় বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সরকারি কাজে আর তাঁদের কোনও দায়িত্ব দেওয়া যাবে না। এর আগে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ওই বইটির ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল শীর্ষ আদালত।

একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট শিক্ষা মন্ত্রককে নির্দেশ দিয়েছে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি নতুন কমিটি গঠন করতে হবে। এই কমিটি অষ্টম শ্রেণি থেকে উচ্চতর শ্রেণি পর্যন্ত এনসিইআরটি-র আইনি বিষয়ক পাঠ্যক্রম নতুন করে চূড়ান্ত করবে। পাঠ্যবইয়ে বিচারব্যবস্থার সমালোচনা কতটা যুক্তিযুক্ত এবং তার সীমা ঠিক কতখানি, এই রায় সেই বিতর্কে এক নতুন মাত্রা যোগ করল।