পাহাড়ে ‘আগুন’! এলপিজি সঙ্কটে বন্ধ হতে পারে দার্জিলিংয়ের সব হোটেল, মাথায় হাত পর্যটকদের

ভরা পর্যটন মরশুমে কালিম্পং ও দার্জিলিং পাহাড়ের মাথায় এখন ঘোর বিপদের মেঘ। দেশজুড়ে এলপিজি (LPG) সিলিন্ডারের যে আকাল তৈরি হয়েছে, তার সবথেকে ভয়াবহ কোপ পড়েছে উত্তরবঙ্গের পাহাড়ে। মঙ্গলবার থেকে পাহাড়ের গ্যাস সরবরাহ প্রায় সম্পূর্ণ স্তব্ধ। পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক যে, দার্জিলিং হোটেল অ্যাসোসিয়েশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, দ্রুত গ্যাসের জোগান স্বাভাবিক না হলে তারা হোটেল বন্ধ করে সমস্ত ট্যুরিস্ট বুকিং বাতিল করতে বাধ্য হবে।

বর্তমানে পাহাড়জুড়ে পর্যটকদের ঢল নেমেছে। হোটেল ও হোম-স্টে মিলিয়ে প্রায় সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি আবাসন এখন টইটম্বুর। কিন্তু সিলিন্ডারের অভাবে রান্নাঘর সামলাতে নাজেহাল মালিকরা। এমনিতেই সমতলের তুলনায় পাহাড়ে পরিবহণ খরচের জন্য রান্নার গ্যাসের দাম অনেক বেশি। তার ওপর গত দু-দিন ধরে নতুন কোনও সিলিন্ডার না পৌঁছনোয় হাতে থাকা মজুতও ফুরিয়ে এসেছে। হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক রাজেশ খান্নার কথায়, “হাতে আর বড়জোর দু-তিন দিনের গ্যাস আছে। এরপর পর্যটকদের ঘর দিলেও খাবার দেব কোত্থেকে? বাধ্য হয়েই আমাদের শাটডাউনের পথে হাঁটতে হবে।”

এই অচলাবস্থা নিয়ে ইতিমধ্যেই জেলাশাসকের দ্বারস্থ হয়েছেন ব্যবসায়ীরা। দার্জিলিং ও কালিম্পং মিলিয়ে প্রায় দুই লক্ষেরও বেশি উপভোক্তা এখন গ্যাসের জন্য হাহাকার করছেন। জিটিএ (GTA)-র পক্ষ থেকেও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, পাহাড়ের অর্থনীতির মেরুদণ্ড হলো পর্যটন, আর সেই পর্যটনকেই খাদের কিনারে ঠেলে দিচ্ছে এই জ্বালানি সঙ্কট। ডিস্ট্রিবিউটাররা জানাচ্ছেন, তাঁদের কাছে হাজার হাজার বুকিং এলেও সাপ্লাই নেই। যদি আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কেন্দ্র বা রাজ্য প্রশাসনের তরফে কোনও বড় পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে পাহাড়ের পর্যটন শিল্পে এক নজিরবিহীন ধস নামার আশঙ্কা করা হচ্ছে।