নির্বাচনের আগে ‘অ্যাকশন’ মুডে কমিশন! পুলিশের সঙ্গে ম্যারাথন বৈঠক, টার্গেট কি কেবলই স্পর্শকাতর বুথ?

বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট এখনও ঘোষণা হয়নি, কিন্তু রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কোনো ঝুঁকি নিতে নারাজ জাতীয় নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই কলকাতার শিপিং কর্পোরেশন ভবনে পুলিশ এবং এনফোর্সমেন্ট এজেন্সিগুলির সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দফতর। এলাকা দখল থেকে শুরু করে কালো টাকার লেনদেন— অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের লক্ষ্যে একগুচ্ছ কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এই বৈঠকে।
কমিশন সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবারের বৈঠকের পর আগামীকাল শুক্রবারও বিকেল সাড়ে চারটে থেকে ম্যারাথন ভার্চুয়াল কনফারেন্স চলবে। এই বৈঠকে ২৫টি এনফোর্সমেন্ট এজেন্সির পাশাপাশি রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (RBI) এবং স্টেট লেভেল ব্যাংকার্স কমিটিকে সশরীরে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। মূলত নির্বাচনের সময় টাকার অবৈধ লেনদেন রুখতেই এই কড়াকড়ি। অন্যদিকে, বুধবার এএসপি এবং ডিএসপি পদমর্যাদার পুলিশ আধিকারিকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, যেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করার ওপর জোর দিয়েছেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল।
বৈঠকে স্পর্শকাতর ও অতি স্পর্শকাতর বুথ চিহ্নিতকরণের পাশাপাশি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জামিন অযোগ্য ধারায় যাদের নামে পরোয়ানা রয়েছে, তাদের দ্রুত গ্রেফতার করা এবং যারা এলাকায় গোলমাল পাকাতে পারে, তাদের আগেভাগেই চিহ্নিত করে এলাকা থেকে সরানোর নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। এছাড়াও বুথে বুথে ওয়েবকাস্টিং এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর গাড়িতে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানোর মতো প্রযুক্তিগত নজরদারির বিষয়গুলি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এক কথায়, ভোটের ঘণ্টা বাজার আগেই রাজ্যকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলতে চাইছে কমিশন।