গ্যাস সঙ্কটে উত্তাল শহর! হিন্দু হস্টেলের রান্নাঘরে তালা, এবার কি তবে পিজি-র মা ক্যান্টিনও বন্ধের মুখে?

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির আঁচ এবার এসে লাগল কলকাতার হেঁশেলে। শহরজুড়ে তীব্র গ্যাস সঙ্কটের জেরে ইতিমধ্যেই হাহাকার শুরু হয়েছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হস্টেল ও ক্যান্টিনে। এই সঙ্কটের মেঘ কি এবার এসএসকেএম বা পিজি হাসপাতালের ‘মা ক্যান্টিন’-এর ওপরেও ঘনিয়ে আসছে? প্রতিদিন যেখানে হাজার হাজার দুস্থ রোগীর আত্মীয় মাত্র ৫ টাকায় পেটভরে ডাল-ভাত-ডিম পান, সেখানে কি এবার তালা পড়বে? এই প্রশ্নেই এখন দানা বাঁধছে গভীর উদ্বেগ।
এসএসকেএম হাসপাতালের মা ক্যান্টিন মূলত নির্ভর করে এলপিজি সিলিন্ডারের ওপর। বর্তমান পরিস্থিতিতে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় কর্মীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়লেও তাঁরা আশাবাদী। ক্যান্টিন কর্মীদের কথায়, “যতই সমস্যা আসুক, আমরা এই পরিষেবা চালিয়ে নিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর।” তবে বাস্তব পরিস্থিতি যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং। হিন্দু হস্টেলের মতো ঐতিহ্যবাহী জায়গায় ইতিমধ্যেই সোমবার রাত থেকে রান্না বন্ধ হয়ে গিয়েছে। প্রতিদিন ১২০ জন ছাত্রের জন্য যেখানে ২৮টি সিলিন্ডার লাগে, সেখানে টান পড়ায় আবাসিকদের এখন দ্বিগুণ খরচ করে বাইরে থেকে খাবার কিনতে হচ্ছে। একই ছায়া দেখা দিচ্ছে আরজিকর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের নার্সিং ও স্টুডেন্ট হস্টেলে। যদিও রোগীদের মূল কিচেন এখনও সচল, তবে আগামী দু-এক দিনের মধ্যে জোগান স্বাভাবিক না হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে।
এই সঙ্কটের মাঝেই কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক দেশজুড়ে গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা স্বচ্ছ করতে ১০ মার্চ এক জরুরি নির্দেশিকা জারি করেছে। প্রতিটি গার্হস্থ্য গ্যাস গ্রাহককে দ্রুত ই-কেওয়াইসি (eKYC) প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সরকারের দাবি, এর ফলে ভর্তুকি এবং সরবরাহের সঠিক খতিয়ান রাখা সম্ভব হবে। তবে আমজনতার আশঙ্কা, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহের যে ব্যাঘাত ঘটছে, তাতে কেবল ই-কেওয়াইসি দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। মা ক্যান্টিনের ওপর নির্ভরশীল এক রোগীর আত্মীয়ের কথায়, “এই ক্যান্টিন বন্ধ হলে আমাদের না খেয়ে মরতে হবে।” আপাতত প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষ—সবার চোখ এখন গ্যাস সিলিন্ডারের জোগানের দিকে।